রোজায় লেবু পানি বা দুধ খেলে কি অ্যাসিডিটি কমে?
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো
রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার কারণে অনেকেরই অম্বল, বুকজ্বালা বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়ে। ইফতারের টেবিলে তাই কেউ লেবু পানি দিয়ে রোজা ভাঙেন, কেউ আবার গরম দুধকে মনে করেন অম্বল কমানোর সহজ উপায়। কিন্তু সত্যিই কি লেবু পানি বা দুধ অ্যাসিডিটি কমাতে কার্যকর? নাকি এটি কেবল প্রচলিত ধারণা?
অ্যাসিডিটি কেন বাড়ে রোজায়?
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড জমতে থাকে। ইফতারের সময় হঠাৎ ভাজাপোড়া, ঝাল বা অতিরিক্ত খাবার খেলে সেই অ্যাসিড আরও সক্রিয় হয়ে বুকজ্বালা ও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, চা-কফি বা কোমল পানীয় গ্রহণও সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। অনেকে মনে করেন, লেবু যেহেতু ক্ষারধর্মী প্রভাব ফেলে, তাই লেবু পানি অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।
ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের বলেন, লেবুতে সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে। খালি পেটে বা তীব্র অ্যাসিডিটির সময় লেবু পানি অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে হালকা কুসুম গরম পানিতে অল্প লেবু মিশিয়ে খেলে অস্বস্তি কমতে পারে। এটি ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন।
তিনি আরও জানান, যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক আলসার বা তীব্র রিফ্লেক্স আছে, তাদের ক্ষেত্রে লেবু পানি সতর্কতার সঙ্গে খাওয়া উচিত।
আরও পড়ুন:
- গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা হলে করণীয়
- নারীর মানসিক স্বাস্থ্য, সংসার-প্রত্যাশা ও অদৃশ্য চাপ
- প্যানক্রিয়াটাইটিসের ইতিহাস থাকলে কেমন সতর্কতা জরুরি?
দুধ কি তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেয়?
দুধ অনেকের কাছে অম্বলের ‘দ্রুত সমাধান’ হিসেবে পরিচিত। কারণ দুধ সাময়িকভাবে পাকস্থলীর অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করে আরাম দেয়। তবে ডা. যোবায়েরের মতে, পূর্ণচর্বিযুক্ত দুধ কিছু সময় পর আবার অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে সাময়িক আরামের পর উপসর্গ ফিরে আসতে পারে। তাই দুধকে স্থায়ী সমাধান মনে করা ঠিক নয়।
তিনি পরামর্শ দেন, প্রয়োজনে কম চর্বিযুক্ত বা হালকা গরম দুধ অল্প পরিমাণে নেওয়া যেতে পারে, তবে তা যেন অতিরিক্ত না হয়।
তাহলে করণীয় কী?
- ইফতার শুরু করুন হালকা ও সহজপাচ্য খাবার দিয়ে
- অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ঝাল ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন
- ধীরে ধীরে খাবার খান, একসঙ্গে বেশি খাবেন না
- ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন
- চা-কফি ও কোমল পানীয় কমান
- প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিন
ডা. যোবায়ের বলেন, অ্যাসিডিটি কমাতে একক কোনো ঘরোয়া উপায় সবার জন্য কার্যকর নয়। জীবনযাপনের নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে বড় সমাধান।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
যদি রোজায় বারবার তীব্র বুকজ্বালা, গিলতে কষ্ট, বমি বা কালচে পায়খানার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এগুলো জটিল সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
রোজায় লেবু পানি বা দুধ দুটিই কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে উপসর্গ বাড়াতেও পারে। তাই অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
জেএস/