ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

ঢাকা-৫: নানা প্রতিশ্রুতিতে ভোটার আকর্ষণের চেষ্টায় প্রার্থীরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৬:৩৬ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। গত ২২ জানুয়ারি প্রচারণার শুরু থেকেই এ আসনের প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ব্যাপক গণসংযোগ ও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তারা; শুনছেন বিভিন্ন নাগরিক বিড়ম্বনা ও সমস্যার কথা।

এই আসনের বিভিন্ন নির্বাচনি জনসভা ও ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটে জিতলে কী কী করবেন- তা জানিয়ে ভোটারদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তাও দিচ্ছেন তারা। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানাচ্ছেন নির্বাচনি অঙ্গীকার।

২০১৬ সালে যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকার কয়েকটি ইউনিয়ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে আসে। সিটি করপোরেশনের অধীনে এলেও এ আসনের মানুষ এখনো বেশিরভাগ নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত। জলাবদ্ধতা, পানি ও গ্যাস সংকট, ভাঙা রাস্তাঘাট, চাঁদাবাজি- নানা নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত এ আসনের জনগণ। প্রার্থীরাও তাই অবকাঠামোগত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে তাদের অঙ্গীকারের কথাই জানাচ্ছেন বেশি।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ সংসদীয় আসন। মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ১২টি। এগুলো হলো- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনি প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ নবী (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়ি পাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মো. ইবরাহীম (হাতপাখা)। মূলত এ তিন প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কামাল হোসেন একই সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটেরও প্রার্থী।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- গণঅধিকার পরিষদের সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর, লেবার পার্টির মো. গোলাম আযম, এলডিপির মো. হুমায়ূন কবির।

jagonews24ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ নবী

 

গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ডেমরা এলাকায় প্রচারণার সময় ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভূমিদস্যুরা আমাদের জলাশয়গুলো, সরকারি খাল-বিল সব ভরাট করে ফেলেছে। এতে করে আমাদের এই ডিএনডির ভেতরেই স্বাধীনতার পর যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, স্থায়ীভাবে কোনো সংসদ এটার সমাধান করতে পারেনি। এখানে এই ভূমিদস্যুরা যে খাল-বিল ভরাট করে ফেলেছে, আমরা জলাশয় স্থায়ীভাবে সমাধান করবো। আর যারা ভূমিদস্যু, যারা জলাশয়গুলো ভরাট করে ফেলেছে—যেমন আমাদের আমুলিয়া মডেল টাউন, কনকর্ড, তারপর আমিন মোহাম্মদ হাউজিং—এসব এলাকা জলাশয় এলাকা ঘোষণা করেছে সরকার। সব সরকারি। রাজউকের কোনো অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও তারা বালু ভরাট করে ফেলছে এবং সাধারণ পাবলিকের, জনগণের জায়গাও তারা ভরাট করে তাদের টাকা-পয়সা দিচ্ছে না।’

আরও পড়ুন
‘ভাইয়ার জন্য দোয়া করবেন, একটা ভোট দেবেন’
প্রথমবারের মতো সিইসির সঙ্গে জামায়াতের নারী নেত্রীদের বৈঠক
জামায়াত আমিরের আসনে ৪৯ শতাংশই নারী ভোটার, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আগামীতে ক্ষমতায় এলে এখানে জলাবদ্ধতা, ভরাট জমি যেগুলো করেছে অবৈধভাবে, এগুলো উত্তোলন করা হবে এবং সাধারণ জমিজমা যেগুলো জনগণের জোর-জুলুম করে দখল করেছে, সরকারি জায়গাগুলো দখল করেছে, এগুরো পুনরুদ্ধার করা হবে।’

গত ২৭ জানুয়ারি ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণা চালানোর সময় নবীউল্লাহ নবী বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ মানুষের বিপুল সমর্থনে বিজয়ী হয়ে এই আসনকে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তুলবো। এই অগ্রযাত্রায় আপনাদের পাশে চাই।’

তিনি ওইদিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে এই এলাকায় যতজন সংসদ সদস্য হয়েছেন, কিন্তু এলাকায় কোনো সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। খেলাধুলার মাঠ নেই, সরকারি ইউনিভার্সিটি নেই, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই, কোনো মেডিকেল-হসপিটাল নেই, কোনো শিশুপার্ক নেই, কোনো কমিউনিটি সেন্টার নেই। মানে বিনোদনের জন্য জনগণের নাগরিক সুবিধা বলতে কিছুই নেই আমাদের ঢাকা-৫ আসনে। অথচ আমাদের এই ঢাকা-৫ আসনটি রাজধানীর একটা প্রবেশদ্বার, একটা রাজধানীর গেট। এখানে আমরা মনে হয় নাগরিক সুবিধা থেকে এমন বঞ্চিত হয়েছি, যেমন মনে হচ্ছে আমরা একটা বস্তিতে বসবাস করছি।’

২৬ জানুয়ারি ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের তুষার ধারা এলাকায় গণসংযোগ ও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নবীউল্লাহ নবী বলেন, ‘শুধু প্রতিশ্রুতিই নয়, আমরা বাস্তবায়নেও বিশ্বাসী। কথার ফুলঝুরি দিয়ে আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসিনি। প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবো না, ইনশাআল্লাহ যা বলবো তা বাস্তবায়নের চেষ্টাও করবো। আমার এই পথচলায় আপনাদের সহাযোগিতা চাই।’

jagonews24জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কামাল হোসেন

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কামাল হোসেন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘সম্মানিত ডেমরা এবং যাত্রাবাড়ীবাসী, আপনারা জানেন আমাদের এই আসনে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন ভোটার। এই ভোটারের কয়েকগুণ হচ্ছে জনসংখ্যা। মানুষের যদি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হয়, তাহলে স্বাস্থ্যসেবা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের এলাকার মানুষের সব সমস্যার সমাধান করার পাশাপাশি একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন হাসপাতাল নির্মাণ করবো। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতি আমরা এখানে নিশ্চিত করবো। আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা আমরা এখানে নিশ্চিত করবো।’

তিনি বলেন, ‘এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য যে ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা দরকার ছিল, হসপিটাল বা কমিউনিটি হসপিটাল থাকার কথা ছিল, কিন্তু আমাদের যাত্রাবাড়ী বরাবরই অবহেলিত, বঞ্চিত। আমাদের ডেমরাবাসী তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আপনার আমাদের ঢাকা মেডিকেলে আসতে হয়। আর ঢাকা মেডিকেলে আসার জন্য যানজট এবং সীমাহীন দুর্ভোগের পরে একজন রোগীর জন্য খুবই ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়।’

‘আমরা মনে করি, আমাদের এলাকাবাসীর এই দীর্ঘদিনের অবহেলিত, বঞ্চিত এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য যেখানে হসপিটাল থাকা দরকার ছিল, বিগত সরকারের কোনো সংসদ সদস্য এখানে আমাদের ডেমরা বা এই অঞ্চলে কোনো হসপিটাল করেননি। এবং আমরা মনে করি এটা সম্ভব। ক্যাপিটাল সিটির এত কাছে হয়েও আমরা দীর্ঘ দিন বঞ্চিত ছিলাম।’ বলেন কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমি যদি এমপি নির্বাচিত হই, আমরা এই বিষয়টা নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি কলেজ করবো এবং আমাদের মাদরাসাগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থায় সার্বিক ক্ষেত্রে উন্নয়নে আমরা এগিয়ে থাকবো ইনশাআল্লাহ। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—স্কুল, মাদরাসার সার্বিক উন্নয়নে আমরা ভূমিকা রাখবো ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরেক ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘এবার জাতীয় নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে ডেমরায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা লতিফ বাওয়ানী জুট মিল ও করিম জুটমিল পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। ইনশাআল্লাহ।’

jagonews24ঢাকা-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হাজী মো. ইবরাহীম

হাজী মো. ইবরাহীমও প্রচার-প্রচারণায় পুরো আসন চষে বেড়াচ্ছেন। গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে ডেমরা সারুলিয়া বাজারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা-৫ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আয়োজনে নির্বাচনি জনসভায় হাজী মো. ইবরাহীম বলেন, ‘দীর্ঘ ৫৪ বছরে ১২টি নির্বাচনে এই অঞ্চল থেকে অনেকেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারলেও ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও কদমতলির মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। চাঁদাবাজি, জুলুম, লুটতরাজ, জমিদখলসহ অসংখ্য সংকট এ অঞ্চলের মানুষের জীবনকে নাভিশ্বাস করে তুলেছে। তাই শুধু নেতার পরিবর্তন নয়, নীতি-আদর্শের মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে হাতপাখায় ভোট দিয়ে আপনার অধিকার নিশ্চিত করুন।’

তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পেলে এই অঞ্চলের চাঁদাবাজিকে চিরতরে দাফন করা হবে, বাড়িওয়ালারা বাড়িঘর করতে চাঁদা দিতে হবে না, কোনো সরকারি অফিসে ঘুস দিতে হবে না, গ্যাসের সংকট সমাধানের কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার গড়ে তোলা হবে, কিছু নারী ও বৃদ্ধদের জন্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, অবকাঠামাগত উন্নয়নে শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে, প্রশাসনকে দলীয় দুর্বৃত্তায়ন মুক্ত করে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে।’

ডেমরা এলাকায় আরেক নির্বাচনি জনসভায় হাজী মো. ইবরাহীম বলেন, ‘এই অঞ্চলের পেশাজীবী মানুষ যারা রয়েছেন, আমরা তাদের নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। নারীদের নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের কর্মসংস্থানগুলোকে আমরা নিরাপদ করবো এবং তাদের স্বাবলম্বী করার জন্য আমাদের বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া আছে। যুবকদের নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। বয়স্ক নাগরিক যারা আছেন, আপনাদের নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। এভাবে বিভিন্ন পেশাজীবী যারা আছেন, আপনাদের নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। আমি সমাজের ভালো মানুষ যারা আছেন, আপনাদের উদাত্ত আহ্বান জানাবো—আপনারা দল-মত নির্বিশেষে একটি পরিবর্তনের লক্ষ্যে সবাই এগিয়ে আসুন। ভালো মানুষরা যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে আমরা নির্বাচিত হয়েই বা করবো কী বলেন? আমাদের তো দুর্বৃত্তদের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।’

রোববারের জনসংযোগ

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিএনপির প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী আসনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে (ব্রহ্মণচিরণ, ধলপুর) প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামাল হোসেন রোববার সকাল ৯টায় ৬৮নং ওয়ার্ড, বিকেল ৪টায় ৬৫নং ওয়ার্ড দক্ষিণ পাড়া পুরাতন মসজিদ এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। সন্ধ্যায় ৪৮নং ওয়ার্ডে প্রচারণা চালান।

রোববার ঢাকা-৫ আসনের ৬৯নং ওয়ার্ডসহ কয়েকটি স্থানে গণসংযোগ করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী হাজী মো. ইবরাহীম।

আরএমএম/ইএ