আলোচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচন জমে উঠেছে/ছবি: জাগো নিউজ
সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয় নগর (আংশিক) উপজেলা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। গেলো কয়েকবারের ধারাবাহিকতায় এবারও দেশের আলোচিত নির্বাচনি আসন এটি। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি ফজলুল হক আমিনী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া আশির দশক থেকে এখানে জিয়াউল হক মৃধা কখনো জাতীয় পার্টি আবার কখনো স্বতন্ত্র হয়ে এমপি হয়েছেন। উকিল আব্দুস সাত্তর ভূঁইয়াও একইভাবে কখনো বিএনপি বা কখনো স্বতন্ত্র হয়ে রাজ করেছেন। এবারে সেই ধারাবাহিকতা নেই; নেই ভোটের সুস্পষ্ট হিসাব-নিকাশ। তবে স্বতন্ত্রে দাপট রয়েই গেছে।
এবারের নির্বাচনে পুরোনো খেলোয়াড় সাত্তার ভূঁইয়া বা জিয়াউল হক মৃধা না থাকলেও আছেন মুফতি আমিনীর রাজনৈতিক উত্তরসূরি দাবিদার বিএনপি জোটের জুনায়েদ আল হাবীব। একই সঙ্গে আমিনীর নাতি পরিচয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী মাওলানা আশরাফ উদ্দীন মাহদী মাঠে নেমেছেন। চমক হিসেবে যোগ হয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী রুমিন ফারহানা ও এস এন তরুন দে। হাঁকডাকে রুমিন এগিয়ে থাকলেও নীরবে কাজ করছেন তরুন দে।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলা সদরের তুলনায় এই আসনেই ভালো জমে উঠেছে নির্বাচন। চতুর্দিকে প্রচারণায় মাইকিং, ব্যানার-ফেস্টুনের ব্যাপক জোগান। সরাইল উপজেলা সদরে চারদিকে মাইকের আওয়াজ আর আওয়াজ। আশুগঞ্জ উপজেলা অংশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিভিন্ন স্পটে বড় বড় বিলবোর্ড ও ফেস্টুন চোখে পড়ার মতো। প্রতিদ্বন্দ্বী বড় দুই দলের নিজস্ব প্রার্থী না থাকলেও প্রচারণায় কমতি নেই। এই আসনটির ফলাফল নির্ধারণ করবে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী।
মানুষ কী চায়?
এলাকার নির্বাচনি চিত্র তুলে আনতে সরাইল উপজেলা সদরের উচালিয়াপাড়ার এক চায়ের দোকানে আড্ডায় কথা হয় বড্ডাপাড়া গ্রামের ট্রাকচালক শাহজাহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ভাই ভোট দিমু হাতপাখায়। সব প্রার্থীর বাড়ি এই আসনে। কিন্তু খেজুর গাছের প্রার্থী সদরের। তার খাওন নাই এখানে। এখানে হাঁস ও কলার লড়াই হবে। এদের কেউ জিতবে। আমরা চাই সৎলোক আসুক।
একই গ্রামের ভ্যানচালক রমজান বলেন, ‘আমরা ভোট দেবো হাঁস প্রতীকে। রুমিন ফারহানা আমাদের এলাকার।এলাকার সবাই তাকে ভোট দেবে। আমাদের বড্ডাপাড়ার হিসাব হলো- মুরব্বিরা যা কয়, সবাই সেদিকে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের খাওয়ার চিন্তা নাই। যেই পাস করুক, রাস্তাঘাট করে দিলেই হয়। জামায়াতের প্রার্থী থাকলে ভোট দিতাম। আমরা চাই পরিবর্তন হোক।’
আরেক ভ্যানচালক যাহাদ মিয়া বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রে ৪ হাজার ভোট। এখানে ঝামেলা হয় না। যে যার দল করে, ভোট দেয়। মিলেমিশে থাকে সবাই। আমরা সবাই হাঁস মার্কায় ভোট দিমু।’
আরও পড়ুন
আমার গুন্ডা বাহিনী নাই যারা কেন্দ্র দখল রাখবে: রুমিন ফারহানা
৫৪ বছর যারা দেশ চালিয়েছে তারা পাঁচবার দুর্নীতিতে দেশকে কলঙ্কিত করেছে
দুনিয়াতে ফ্রি বলে কিছু নাই: রুমিন ফারহানা
মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘হুজুরকে (জুনায়েদ আল হাবীব) ফেল করাবে এই মাইক। আমাদের স্ট্যান্ডে এই মাইক লাগাইছে, সারাদিন চলে। কান ফালাফালা করে দেয়। স্ট্যান্ড ছাইড়া চলে আইছি।’
তিনিও বলেন, ‘আছিলাম খেজুর গাছ। এখন কাঁটা খাইতে খাইতে আর সহ্য হয় না। এখন আমরা ভোট দেবো হাঁস মার্কায়। এলাকার সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিছি।’
ভোটের হিসাব কী বলে?
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৫ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ২০১ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।
আই আসনে মোট প্রার্থী ৯ জন। তারা হলেন- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আশরাফ উদ্দীন, স্বতন্ত্র (কলার ছড়ি) এস এন তরুন দে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) তৈমুর রেজা মো. শাহজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেছার আহমাদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মোহাম্মদ জুনায়েদ আল হাবীব, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. মাঈন উদ্দিন, স্বতন্ত্র (হাঁস) রুমিন ফারহানা ও আমজনতার দলের শরিফা আক্তার।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখানে এখনই প্রেডিকশন (ধারণা) করা কঠিন। ভোটের আগের রাতেও পাল্টে যেতে পারে চিত্র। বিএনপি জামায়াত দুই দলই জোট শরীকদের ছাড় দিয়েছে। উভয়পক্ষ সেভাবে মাঠে নেই। আবার বিএনপির একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগ হয়ে যাবে। আরেকটা বড় বিষয়- দুই জোটের প্রার্থী আলেম, আর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রগতিশীল। কোনোভাবেই হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। শেষ সময়ে ভাসমান ভোটারদের যিনি টানতে পারবেন, জয় তারই।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
এসইউজে/ইএ