জনসেবা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সুষ্ঠু বাস্তবায়ন প্রয়োজন


প্রকাশিত: ০৬:৪৪ এএম, ১১ জুন ২০১৬

মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মত মৌলিক অধিকারের বিষয়গুলো সরবরাহ ও নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের। জনসেবা খাতগুলোতে সবার জন্য সমান সেবা নিশ্চিতকরণে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বরাদ্দের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের গুণগত মান এবং মনিটরিং বাড়ানো প্রয়োজন বলে করছে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র)।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) আয়োজিত জাতীয় বাজেট পরবর্তি সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় উঠে আসে।

সুপ্র’র চেয়ারপারসন আহমেদ স্বপন মাহমুদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে পত্র পাঠ করেন সুপ্র’র জাতীয় পরিষদ সদস্য মঞ্জু রাণী প্রামাণিক।

বক্তারা বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের রাজস্ব প্রাক্কলন হচ্ছে ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আদায় করতে হবে ২ লক্ষ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এটা একেবারেই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা এতে কোনো সন্দেহ নেই। বর্তমান অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এ হার ৩৫.৪ শতাংশ বেশি। কর প্রদানে কিভাবে মানুষকে আরও উৎসাহিত করা যায় সেদিকে বেশি নজর দেয়া এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহকে এ ব্যাপারে যুগপোযোগী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে সুপ্র মনে করে।

সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, বাজেটের পূর্ণ ও সঠিক বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ করা জরুরি। বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা যেমন জরুরি তেমনি দুর্নীতি হ্রাস, কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ অত্যাবশ্যক। বাজেট বাস্তবায়নের জন্য উন্নয়ন প্রশাসনকে গতিশীল এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোকেও শক্তিশালী করাসহ সকল পর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
 
তারা বলেন, কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে জেলা বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে ঘোষিত গড় প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ কীভাবে অর্জিত হবে সেই বিষয়ে সুষ্পষ্ট দিক-নির্দেশনা বাজেটে থাকতে হবে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কৃষি ও গ্রামীণখাত এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।

বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে আমরা এবারও দেখতে পাচ্ছি যে, একটা মোটা অঙ্কের টাকা (১১.৭%) ব্যয় হবে ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, সুখের বিষয় এবার শিক্ষাখাতে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ যা মোট বাজেটের ১৫.৬%, এবং স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দেরও উন্নতি হয়েছে গত বছরের বাজেটের তুলনায় ০.৮% বেড়ে হয়েছে ৫.১%। অন্যদিকে কৃষিতে বরাদ্দ ০.১% কমে হয়েছে বরাদ্দ ৬.৭%।
 
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বক্তারা বলেন, এ বছরের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ উর্ধ্বমুখী হলেও কৃষিখাতে বরাদ্দ কিছুটা কমে গেছে। অর্থাৎ কৃষি দেশের অন্যতম প্রধান খাত হওয়া সত্বেও কৃষিতে বরাদ্দ না বেড়ে বরং কমেছে। তাই কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে ও পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি উপকরণে ভর্তুকি আরও বাড়াতে হবে বলে মনে করে সুপ্র।

এএস/এআরএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :