উপদেষ্টা

প্লেনের টিকিট সিন্ডিকেটের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যাদেশ বড় প্রতিবন্ধকতা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৮ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন

‘ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ প্লেনের টিকিট সিন্ডিকেট এবং দুর্বৃত্তায়নের ক্ষেত্রে বড় একটি প্রতিবন্ধকতা বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

‘ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নিয়ে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।

তিনি বলেন, মূলত মধ্যপ্রাচ্যগামী আমাদের যে যাত্রী আছেন, তারা ব্যাপক প্রতারণার শিকার হন এবং এই প্রতারণাকে বারিত করার উদ্দেশ্যেই আমরা এই অধ্যাদেশ করেছি।

উপদেষ্টা বলেন, নতুন অধ্যাদেশে আমরা এয়ার অপারেটর, জিডিএস, এনডিসি, ট্রাভেল জিএসএ এবং ট্রাভেল এজেন্ট সবাইকে সম্পৃক্ত করে একটা জবাবদিহিমূলক অবস্থার সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছি। যে সিন্ডিকেশন যেভাবে হতো, মানে দুর্বৃত্তমূলক কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত ছিল, তাদের দুর্বৃত্তায়নের কাজকে আমরা জটিল করে দিয়েছি। তারা যেন আর এই জিনিসগুলো এত সহজে করতে না পারে।

‘তারা যে যে উপায়গুলোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে এই দুর্বৃত্তায়নের সিন্ডিকেশন করতো, সেটাকে আমরা বন্ধ করার প্রাণান্ত চেষ্টা করেছি।’

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, আমরা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেছি, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেছি। পরামর্শ করে আমরা (অধ্যাদেশের মাধ্যমে) এমন একটা ব্যবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করেছি যেখানে সিন্ডিকেশন হওয়ার ক্ষেত্রে যত বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যায়, আমরা সব প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছি।

আরও পড়ুন
এ সরকারের মেয়াদে চালু হচ্ছে না শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল
আস্থার সংকটে প্লেনের টিকিট ব্যবসা

 

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে এ অধ্যাদেশের কারণে পাঁচ হাজার এজেন্সি বন্ধ হয়ে যাবে- এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ৫ হাজার বন্ধ হবে না, ৫টি বন্ধ হবে; সেটা আমরা বলতে পারছি না। আবার ৫ হাজার তৈরিও হতে পারে। ব্যবসা তো কিছু বন্ধ হয়, কিছু চালু হয়- এটাই ব্যবসার নিয়ম। সো আমরা এরকম সুনির্দিষ্ট কোনো যদি আপনি কারণ ব্যাখ্যা না করেন কেন বন্ধ হবে, সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। সো আমরা দেখেছি যে এজেন্সিগুলো হচ্ছে তাদের অন্যান্য এজেন্সির সঙ্গে বি-টু-বি একটা চুক্তি করে এবং দেখা যায় অনেক সময় তারা কিছু টাকা সাশ্রয়ের জন্য এই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও তারা বিভিন্নভাবে টিকেট ক্রয় বা এই যে একটা ব্যবস্থা করে থাকে, এটা কি বন্ধ হবে? বন্ধ হলে কি হবে? জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কার্ডধারী যারা প্যাসেঞ্জার আছেন, যাত্রী আছেন, এনাদের উৎস দেশ বা গন্তব্য দেশ ব্যতীত কোথাও থেকে ওনারা টিকিট কাটতে পারবেন না। তাই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে টিকিট কাটার, যারা বিএমইটি’র কার্ড হোল্ডার, এনাদের আর সুযোগ থাকবে না।

অনেক এয়ারলাইন্স আছে যারা শুধু কিছু সংখ্যক এজেন্সিকে দিয়ে রেখেছে। যেটা তাদের অনেকটা সিন্ডিকেট বলা যায়। কিন্তু অন্য এজেন্সিকে দিচ্ছে না। সেক্ষেত্রে তাহলে ওই এজেন্সির করণীয় কী- এ বিষয়ে বিমান উপদেষ্টা বলেন, আমরা এয়ার অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করবো বিষয়টা নিয়ে। একই সঙ্গে যারা এই এয়ারলাইন্সগুলো অপারেট করে, ওনাদের তো নিজস্ব একটা পদ্ধতি আছে। সেটার মাধ্যমে ওনারা যাকে যোগ্য মনে করবেন ওনারা তাদেরই দেবেন। বাট তারপরও জিনিসটাকে আরও বেশি ওয়াইড স্প্রেড কীভাবে করা যায় সে ব্যাপারে কথা বলবো।

‘সিট বিক্রি করতে গেলে তারা (এয়ারলাইন্সগুলো) যদি অল্প সংখ্যক ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বিক্রি করতে চায় তাহলে তো তারা টিকিট বিক্রি করতে পারবে না। তো তাদের ডেফিনেটলি সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং তারা সংখ্যা বাড়াবে; এবং আমাদের জানা তথ্য অনুযায়ী অনেকেই এখন উৎসাহিত হচ্ছেন, সরাসরি ব্যবসা করার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছেন।’

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ক্যাটাগরি থ্রি-তে উন্নীতের চিন্তা

শীতের সময়ে ঘন কুয়াশা বা আবহাওয়ার কারণে বিমান আসলে আমাদের ঢাকা এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করতে পারে না। সেক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যায়। আমাদের বিমানবন্দরের ক্যাটাগরি উন্নীত করা যায় কি না- এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের এয়ারপোর্ট ক্যাটাগরি ওয়ান ছিল, এটাকে আমরা ক্যাটাগরি টু-তে উন্নীত করেছি। ক্যাটাগরি টু-তে গেলে ৫০ মিটার পর্যন্ত আমাদের ভিজিবিলিটিতে একটা প্লেন ল্যান্ড করতে পারে।

তিনি বলেন, আমাদের আবহাওয়াজনিত যখন বৈরি অবস্থা তৈরি হয় তখন সামান্য কিছু ফ্লাইট ডাইভার্টেড হয়। আমরা যদি শাহজালাল বিমানবন্দরকে ক্যাটাগরি থ্রি-তে উন্নীত করতে চাই আমাদের এয়ারপোর্ট, তাহলে উত্তরার অনেক বাড়িঘর আমাদের ভাঙতে হবে। সো এত বিশাল ভাঙতে হবে, যে ভাঙাটা আমাদের জন্য প্র্যাকটিক্যাল না, বাস্তব না।

‘পত্রিকায় প্রতিবেদন দেখেছি বছরে ২০-২৫টা ফ্লাইট ডাইভার্টেড হয়, এটা সম্ভবত আমাদের মেনে নিতে হবে। আমাদের কক্সবাজারকে আমরা চেষ্টা করছি যে এটাকে ক্যাটাগরি থ্রি-তে উন্নীত করতে। কারণ কখনো কখনো আমাদের ফ্লাইট কলকাতাতে যায়, কখনো ব্যাংককে যায়। সো আমরা যদি কক্সবাজারকে ক্যাটাগরি থ্রি-তে উন্নীত করতে পারি, তাহলে আমরা হয়তোবা ফ্লাইট ডাইভার্ট করে কক্সবাজারে নিয়ে যাবো।

প্লেনের টিকিটের মূল্য কমলেও আরও কমা উচিত

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের কক্সবাজারের রানওয়ে ঢাকার রানওয়ের থেকেও বড়। ঢাকার ১০ হাজার ৫০০ ফিট, কক্সবাজার ১৪ হাজার ফিট। আমরা যদি কক্সবাজারকে ক্যাটাগরি থ্রি-তে নিয়ে আসতে পারি, আশা করি তখন আর বিদেশে যেতে হবে না, আমাদের দেশের মধ্যে আমরা থাকতে পারবো।

বিমান ও পর্যটন উপদেষ্টা আরও বলেন, আগেও আপনাদের বলেছি যে টিকিটের মূল্য কমানো আমার লক্ষ্য না। টিকিটের মূল্য যৌক্তিককরণ আমার লক্ষ্য। আমি মনে করি যে এখনো টিকিটের মূল্য যৌক্তিক হয়নি।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন যে টিকিটের মূল্য অলরেডি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে এসেছে। বাট সেটাও আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয় না। আমি মনে করি টিকিটের মূল্য আরও কমা উচিত। বাট এই যৌক্তিক পর্যায়ে আনার ক্ষেত্রে আপনারা প্রয়োজনীয় সংবেদনশীলতা তৈরি করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব নাসরীন জাহান বলেন, ট্রাভেল এজেন্সি অধ্যাদেশে শাস্তি ও জরিমানার বিধান কঠোর করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান করা হয়েছে। গুরুতর অপরাধ ও প্রতারণার ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশে নিবন্ধন সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করাসহ জনস্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তির দেশত্যাগ রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশের সংশোধনী বাস্তবায়িত হলে ট্রাভেল এজেন্সি খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে, ভোক্তা ও প্রবাসী কর্মীদের আস্থা বাড়বে এবং সৎ ব্যবসায়ীরা আরও নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন। সরকারের লক্ষ্য কোনো ব্যবসা বন্ধ করা নয়; বরং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ভ্রমণ ও পর্যটন খাত বিনির্মাণ।

আরএমএম/ইএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।