আউয়ালের উদ্দেশে হাসনাত

কাউকে ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে আবার তাদের কাছেই ভোট চাইবেন, তা হবে না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ/ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রার্থিতা নিয়ে আপিল শুনানি চলাকালে বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু অশোভন আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সেই সঙ্গে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ায় কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত।

তিনি বলেন, ‘একাডেমিক পরিবেশে যখন আইনজীবীরা দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তিতর্ক করছিলেন, তখন আব্দুল আউয়াল মিন্টু হঠাৎ তেড়ে যান এবং ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে গালিগালাজ করেন। এমনকি পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে তার ছেলে তাবিথ আউয়াল তাকে কমিশন কক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যেতে বাধ্য হন।’

আব্দুল আউয়াল মিন্টুর আচরণের সমালোচনা করে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘যারা এলিটিজম দেখাতে আসে, তারা যেন রাজনৈতিক এলিটিজম ঘরেই রেখে আসে। আপনি কাউকে ব্লাডি সিটিজেন বলবেন, আবার তাদের কাছেই ভোট চাইবেন, সেটা হবে না।’

হাসনাতের অভিযোগ, আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মতো বিদেশে অর্থ পাচারকারী এলিট শ্রেণির একটি অংশ তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করেছে। তিনি বলেন,‘রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যারা ব্যবসা করেন এবং সেফ এক্সিট নেন, তাদের আমরা ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে দেখতে চাই না।’

এছাড়া, শুনানি চলাকালে ইসির সামনেই একজন প্রার্থীকে হেনস্তা ও প্রহারের ঘটনায় কমিশনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসনাত। তিনি বলেন, ‘ইসির সামনেই একজন প্রার্থীকে প্রহার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এতে প্রশ্ন ওঠে, অন্য প্রার্থীদের নিরাপত্তা নির্বাচন কমিশন কীভাবে নিশ্চিত করবে?’

কমিশন এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে এবং লিখিত অভিযোগ দিতে বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে জানিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, ‘এটা অনেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরের কাছে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে গেলে যেভাবে লিখিত দিতে বলা হতো, ইসির প্রতিক্রিয়াও তেমনই। আমরা কমিশনকে রুলিং জারি করতে বলেছিলাম। কিন্তু কমিশন তা না করে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।’

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কমিশন যদি এসব শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষের রক্ত দেওয়া বৃথা হবে। নির্বাচনের সময় টাকার জোরে সবকিছু ম্যানেজ করার সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না।’

এমওএস/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।