ট্রাম্প কি মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করছেন?
যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। তবে চলমান সামরিক হামলার কারণে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কার্যত যুদ্ধ?
সংবিধান কী বলে?
মার্কিন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১, ধারা ৮ অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার একমাত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের। অন্যদিকে অনুচ্ছেদ ২ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
হ্যামলাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড্যাভিড স্ক্যালজ বলেন, এই কাঠামোর কারণে আধুনিক প্রেসিডেন্টরা অনেক সময় সামরিক পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষামূলক বা জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই অভিযান চালান।
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। পরবর্তী ভিয়েতনাম ও ইরাকের মতো সংঘাতগুলোতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে।
১৯৭৩ সালে কংগ্রেস ওয়ার পাওয়ার রেজুলিউশন পাস করে, যা প্রেসিডেন্টের একক সামরিক পদক্ষেপের সময়সীমা ৬০ দিনে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করে। এই আইনের অধীনে, সামরিক অভিযান শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে হামলার বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, ইরান থেকে আসা হুমকি সহনীয় সীমা অতিক্রম করেছে, যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান দাবি করেছিল যে দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি ছিল।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ওয়ার পাওয়ার্স রেজুলিউশন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
আক্রমণ নাকি যুদ্ধ?
ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পল কুইরক বলেন, আক্রমণ ও যুদ্ধ-এর পার্থক্য অনেক সময় নির্ভর করে এর সময়কাল ও তীব্রতার ওপর।
তার মতে, যদি অভিযান স্বল্পমেয়াদি হয়, তাহলে সেটিকে আক্রমণ বলা হতে পারে। কিন্তু যদি এটি সপ্তাহ বা মাস ধরে চলে, তাহলে বাস্তবে তা যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। তবে চলমান হামলার বিস্তৃতি ও স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করবে—এটি কেবল সামরিক অভিযান, নাকি বাস্তব অর্থে একটি যুদ্ধ।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমএসএম