ডাকসুর কনসার্টে সিগারেট বিপণনে তামাক কোম্পানির শাস্তি দাবি
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত একটি কনসার্টে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণে অভিযুক্ত তামাক কোম্পানির শাস্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সংগঠনটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট বলছে, ‘অতি সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু এবং ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামের একটি প্লাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত কনসার্টে আইন লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু অনৈতিকই নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দীর্ঘ সময় ধরে নানাভাবে আইন লঙ্ঘন করেও কোনো ধরনের শাস্তি না হওয়ায় তামাক কোম্পানিগুলো দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
সংগঠনটি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ, যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নৈতিকতার শিক্ষা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অথচ এখানে কনসার্টের আড়ালে তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধূমপানকে স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় করে তোলার অপচেষ্টা চলমান রয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা এবং আইন অনুসারে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে।
তামাকবিরোধী জোট জানায়, দীর্ঘমেয়াদি ভোক্তা হিসেবে তৈরি করার উদ্দেশ্যে তামাক কোম্পানিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করছে। এই কাজে তাদের সহায়তা করছে কিছু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। এ ধরনের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় কোম্পানিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কনসার্টের আড়ালে তরুণদের তামাক সেবনে উৎসাহিত করছে। যা সরকারের জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রচেষ্টার সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। কনসার্টের আড়ালে তামাকের এ ধরনের আগ্রাসী প্রচার ও প্রসারে সহায়তাকারী সংস্থা এবং কোম্পানিগুলোকে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।
সংগঠনটি বলছে, বর্তমান সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করেছে। সংশোধিত অধ্যাদেশের ধারা ৬ (খ) অনুসারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ। এ ছাড়াও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ব থেকেই পাবলিক প্লেসের অন্তর্ভুক্ত এবং পাবলিক প্লেসে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তামাক কোম্পানি তরুণদের সিগারেট ও ই-সিগারেটে আসক্ত করতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করছে।
ইএইচটি/এমএমকে