সিএইচটি সম্প্রীতি জোট

পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো রাজনৈতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাঠ নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২১ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট, ছবি: জাগো নিউজ

পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো রাজনৈতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাঠ নয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনি ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রামকে প্রতিশ্রুতির ফুটনোট নয় বরং জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে স্থান দিতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে স্পষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রোহিঙ্গা ইস্যু জানতে চেয়ে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে এসব কথা বলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক।

রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিচারিতা, দায়িত্বহীনতা ও পরিকল্পনাহীনতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও কঠোর অবস্থান ঘোষণার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলো আজও রাষ্ট্রীয় বৈষম্য, রাজনৈতিক উপেক্ষা ও নিরাপত্তাহীনতার বোঝা বইছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।

চিং মং চাক বলেন, নির্বাচনের সময় এলেই রাজনৈতিক দলগুলো উন্নয়ন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বুলি আউড়ে যায়। অথচ বাস্তবতা হলো, পার্বত্য চট্টগ্রামে গেলেই তারা নীরব থাকে, অস্পষ্ট কথা বলে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ভূমি অধিকার, সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো দল স্পষ্ট, সময়নির্ধারিত ও জবাবদিহিমূলক পরিকল্পনা জাতির সামনে হাজির করতে পারেনি, এই ব্যর্থতা কাকতালীয় নয়, এটি রাজনৈতিক অবহেলার ফল।

তিনি বলেন, কোনো সুবিধাবাদী রাজনীতির ব্যাকইয়ার্ড নয় এবং কোনো গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষার জোনও নয় পাবত্য চট্টগ্রাম। এই অঞ্চলে বসবাসকারী প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলো ভিক্ষুক নয়, তারা রাষ্ট্রের সমান নাগরিক, পূর্ণ অধিকার তাদের প্রাপ্য। একইভাবে, রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। বছরের পর বছর ধরে এই সংকটকে কখনো আন্তর্জাতিক দয়া প্রদর্শনের নাটক, কখনো নির্বাচনি বক্তব্যের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু আজও কোনো দল স্পষ্ট করে বলেনি, এই সংকটের শেষ কোথায়। সমাধানের রূপরেখা কী এবং এর দায় কে নেবে। এই অব্যবস্থাপনা যদি পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামাজিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও জনজীবনের বিপর্যয় সৃষ্টি করে তার দায় সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকেই নিতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কঠোরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে অস্পষ্টতা আর চলবে না, লিখিত, প্রকাশ্য ও বাস্তবায়নযোগ্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে। ভূমি, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রশ্নে দ্বিমুখী ভাষা পরিহার করে পরিষ্কার রাজনৈতিক অবস্থান নিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে লোক দেখানো বক্তব্য নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানভিত্তিক পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে তথাকথিত শান্তি চুক্তি বাতিলের বিষয়ে পরিষ্কার ও লিখিত রাজনৈতিক অবস্থান ঘোষণা করতে হবে।

সতর্কতা জানিয়ে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের এই নেতা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ আর প্রতারণার রাজনীতি মেনে নেবে না। প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলোর অধিকার প্রশ্নে যারা নীরব থাকবে, তাদের নীরবতা জনগণ রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবেই গণ্য করবে। এই অঞ্চলের জনগণকে উপেক্ষা করে কেউ আর জাতীয় রাজনীতির বৈধতা দাবি করতে পারবে না। এটি কোনো অনুরোধ নয়, এটি রাজনৈতিক দাবি। এটি কোনো সৌজন্য আহ্বান নয়, এটি জবাবদিহির ডাক। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান না নিলে সেই রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায় ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বহন করতে হবে।

কেআর/এসএনআর

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।