সিজিএসের জরিপ

ভোটের মাঠে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ৫০ শতাংশ সংখ্যালঘু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১৩ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে করা জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করছেন সিজিএসের জিল্লুর রহমান, ছবি: জাগো নিউজ

আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিবেশে নিরাপত্তা নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার নিজেদের সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করছেন। বিপরীতে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ নিজেদের উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন এবং ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণকে অনিরাপদ বা অত্যন্ত অনিরাপদ মনে করছেন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অঙ্গীকার থেকে অনুশীলন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা বাংলাদেশের নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। ওই প্রতিবেদনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. সেলিম জাহান এবং সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে রাজনীতিক, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ফলাফল উপস্থাপন করেন সিজিএসের জিল্লুর রহমান।

সিজিএস জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৫০৫ জন সংখ্যালঘু অংশগ্রহণকারীর ওপর পরিচালিত জরিপের মাধ্যমে ভোটদানের আচরণ, রাজনৈতিক সচেতনতা, নিরাপত্তাবোধ ও প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে পরিসংখ্যানগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

৫৭ দশমিক ২ শতাংশ জানিয়েছেন ভোটে অনিয়ম হলে তারা ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জানাবেন। ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করবেন এবং ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ নিরাপত্তা বাহিনীকে অবহিত করবেন। ২০ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, তারা কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে নীরব থাকবেন। মাত্র ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কথা বলেছেন, ১২ দশমিক ৫ শতাংশ গণমাধ্যমকে জানাবেন এবং ১১ দশমিক ২ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।

জরিপের ফলাফলে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক হয়রানি বা হুমকির ঘটনায় অভিযোগ জানানোর প্রবণতাও অত্যন্ত কম। জরিপে ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি যাতে অভিযোগ জানানো প্রয়োজন হয়েছে। তবে যারা হুমকি বা সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২২ শতাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন এবং কোনো অভিযোগ করেননি।

অভিযোগ জানানো হলেও তা মূলত সামাজিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকে। মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ নির্বাচন কমিশনে এবং ১ দশমিক ৫ শতাংশ থানায় অভিযোগ করেছেন।

জরিপ অনুযায়ী, অভিযোগের পর আরও বিপদের আশঙ্কাই সবচেয়ে বড় বাধা। ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ মনে করেন, অভিযোগ করলে ভবিষ্যতে আরও ক্ষতির শিকার হতে পারেন। পাশাপাশি ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ আইনি ব্যবস্থার ওপর আস্থা না থাকার কথা জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটার পর কেন মানুষ অভিযোগ জানায় না এই প্রশ্নে একাধিক কারণ উঠে এসেছে। সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেছেন। এছাড়া ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ পরিচয় প্রকাশ হয়ে সামাজিক অপমান বা কলঙ্কের আশঙ্কা করেন।

২৯ দশমিক ৭ শতাংশ জানিয়েছেন, পরিবার, সমাজ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পান না। ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ আইনি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান। ২০ দশমিক ২ শতাংশ মনে করেন, প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না।

যারা নির্বাচনি অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেও কোনো পদক্ষেপ নেননি এমন প্রশ্মের জবাবে, তাদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক কিংবা মানসিক ক্ষতির আশঙ্কাই নীরব থাকার প্রধান কারণ। একই সঙ্গে ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা পুলিশি হয়রানি বা আইনি জটিলতার ভয় প্রকাশ করেছেন। সমানসংখ্যক উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ‘ব্যক্তিগত শান্তি বজায় রাখতে’ তারা কোনো ঝামেলায় জড়াতে চান না।

জরিপে আরও দেখা যায়, ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ মনে করেন অভিযোগ করলেও কোনো বিচার বা প্রতিকার পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে, ৯ দশমিক ৬ শতাংশ সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এসব তথ্য নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর গভীর অনাস্থার ইঙ্গিত দেয়।

এসএম/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।