বদিউল আলম মজুমদার জানালেন, তিনি সরকারের অংশ ছিলেন না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৯ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বদিউল আলম মজুমদার/ছবি: সংগৃহীত

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তারা রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি কমিশন গঠন করে। এর মধ্যে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান হন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। এছাড়া তিনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে কাজ করেছেন। তবে এখন বলছেন, তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের অংশ ছিলেন না।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বদিউল আলম এ কথা বলেন। ‘অঙ্গীকার থেকে অনুশীলন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি- বাংলাদেশের নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান।

বদিউল আলম বলেন, ‘একটা ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো দরকার। কোনো কোনো সময় এমন একটা ধারণা সৃষ্টি করা হয় যে, আমি যেন সরকারের অংশ ছিলাম। ২০২৪ সালের অক্টোবরে এক সাংবাদিক ফোন করে বলেন, আপনাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমি বললাম কী দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ পাঠালেন। সেখানে দেখলাম আমাকে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান করা হবে। এর আগে আমার সঙ্গে কথা হয়নি। আমি সরকারের অংশ ছিলাম না। আমার মতামত নেওয়া হয়নি।’

‘সরকারের একটা অগ্রাধিকার এবং জনগণের দাবির মুখে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সহায়তার চেষ্টা করেছি। সরকারের অংশ হিসেবে কাজ করিনি,’ যোগ করেন তিনি।

বদিউল আলম মজুমদার জানালেন, তিনি সরকারের অংশ ছিলেন না

এসময় দর্শকসারি থেকে একজন বলেন, ‘এটা তো অসৌজন্যমূলক।’ তখন বদিউল আলম বলেন, ‘হয়তো উনি (প্রধান উপদেষ্টা) মনে করেছেন, আমার কিছু যে অভিজ্ঞতা আছে, সেটা তিনি কাজে লাগাতে চান।’

প্রধান উপদেষ্টা বয়োজ্যেষ্ঠ এবং অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কমিশনের আটজন মিলে কয়েক মাস খেটেখুটে রিপোর্ট পেশ করেছি। সরকারের সঙ্গে আমার এটুকুই সম্পৃক্ততা। আমি এ দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু সরকারের অংশ হিসেবে নয়। একটা ফুটো পয়সা বেতন-ভাতাও নিইনি। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এ কাজ করেছি।’

ঐকমত্য কমিশনের সদস্য হওয়া প্রসঙ্গে বদিউল আলম জানান, ছয়টি সংস্কার কমিশন যখন সুপারিশ পেশ করলো, তখন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হলো। যারা ওই ছয় কমিশনের সদস্য ছিলেন তাদেরই ঐকমত্য কমিশনের সদস্য করা হলো। তিনি আট মাসব্যাপী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছেন। এক্ষেত্রেও তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করেন। সুজনের সম্পাদক হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঐকমত্য কমিশন গঠনের ব্যাপারে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। 

বদিউল আলমের এই কৈফিয়ত দেওয়া প্রসঙ্গে পরে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটা কথা জানি- সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। বোধহয় সে কারণে কৈফিয়তটা ওনাকে দিতে হয়েছে। আরেকটা হচ্ছে, আপনি যত সুন্দর পোশাকই পরেন না কেন, গায়ের মধ্যে যত সুগন্ধি মাখেন না কেন, কর্দমাক্ত রাস্তায় যখন হাঁটবেন কাদা কিছু লাগবেই। এটা আপনি এড়াতে পারবেন না। উনি অনেক ভালো মানুষ। কোনো অর্থ নেননি, দেশের জন্য কাজ করেছেন। কিন্তু রাষ্ট্র অনেক ব্যর্থ হয়েছে। তারপরও ওনাদের বলতে হচ্ছে যে সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল, কোনো কাজ হয়নি। দুদক ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধানও একই কথা বলছেন।’

এসএম/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।