ক্যানসার প্রতিরোধ সম্ভব, যদি সচেতনতা হয় অভ্যাস

জান্নাত শ্রাবণী
জান্নাত শ্রাবণী জান্নাত শ্রাবণী , সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৬:২৭ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো

‘ক্যানসার’ শব্দটি শুনলেই আতঙ্কে শিউরে ওঠেন অনেকেই। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ক্যানসার মানেই মৃত্যু নয়। বরং সময়মতো সচেতনতা, জীবনযাপনে কিছু ‘না’ আর কিছু ‘হ্যাঁ’ বলার অভ্যাস এবং শরীরের সতর্ক সংকেতগুলো বুঝে নেওয়ার মধ্য দিয়েই বড় অংশের ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের ক্যানসার এপিডেমিওলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাস্কিন বারবারই বলে আসছেন ক্যানসার প্রতিরোধের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে।

অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাস্কিনছবি: অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাস্কিন

ক্যানসার প্রতিরোধে যেসব বিষয়ে ‘না’ বলা জরুরি

ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় এমন কিছু অভ্যাস আমরা জেনেও এড়িয়ে যাই না। অথচ এসব অভ্যাস পরিহার করাই হতে পারে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। যেমন-

ধূমপান ও তামাকজাতীয় দ্রব্য: সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল সবই ক্যানসারের নীরব ঘাতক। মুখগহ্বর, ফুসফুস, গলা ও খাদ্যনালির ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক।

অতিরিক্ত মাংস ও চর্বিজাতীয় খাবার: লাল মাংস ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে কোলন, পাকস্থলী ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

অ্যালকোহল বা মাদকদ্রব্য সেবন: অ্যালকোহল লিভার, খাদ্যনালি ও মুখগহ্বরের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত সেবন করলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।

একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক: এতে এইচপিভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, যা জরায়ুমুখসহ বিভিন্ন ক্যানসারের জন্য দায়ী।

ক্যানসার প্রতিরোধে যেসব বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বলা জরুরি

প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া: রঙিন শাকসবজি ও ফলমূল শরীরকে দেয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্যানসার সৃষ্টিকারী কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে।

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হরমোনজনিত ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

বুক পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা: নারীদের নিয়মিত নিজের স্তন পরীক্ষা করা এবং সন্দেহজনক কিছু মনে হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন সংক্রমণ কমায়, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও হ্রাস করে।

এইচপিভি টিকা গ্রহণ: ৯-১৪ বছর বয়সে কন্যাশিশুকে এইচপিভি টিকা দিলে জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

আরও পড়ুন: 

শরীর যে ৭টি সতর্ক সংকেত দিলে অবহেলা নয়

  • দীর্ঘদিনের খুসখুসে কাশি বা কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া
  • সহজে সারে না এমন ক্ষত
  • স্তনে বা শরীরের যেকোনো অংশে চাকা বা পিণ্ড অনুভব হওয়া
  • অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ
  • ঢোক গিলতে অসুবিধা বা দীর্ঘস্থায়ী হজমের সমস্যা
  • মলমূত্র ত্যাগের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন
  • তিল বা আঁচিলের আকার, রং বা গঠনে স্পষ্ট পরিবর্তন

এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ক্যানসার প্রতিরোধ কোনো জটিল বিষয় নয়। বরং নিজের জীবনযাপনের দিকে একটু মনোযোগ, ভুল অভ্যাস থেকে সরে আসা এবং শরীরের ভাষা বোঝার মধ্য দিয়েই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাস্কিনের কথায়, ‘ক্যানসারকে ভয় নয়, জানতে হবে। জানলেই প্রতিরোধ সম্ভব।’ আজই সিদ্ধান্ত নিন অসচেতনতা নয়, বেছে নিন সচেতন জীবন। নিজে বাঁচুন, অন্যকেও সচেতন করুন।

জেএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।