প্রধান উপদেষ্টাকে ‘মনের কথা’ লিখে ৩৫৮১৭ চিরকুট

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:২৮ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রধান উপদেষ্টাকে নিজেদের অনুভূতি লিখে প্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ/সংগৃহীত ছবি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে বাজছে বিদায়ের সুর। দেড় বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এ সরকার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিদায়ের আগ মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে সেরকমই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তত ৩৫ হাজার ৮১৭ জন।

প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে টুকরো টুকরো কাগজে নিজেদের অনুভূতি লিখে প্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরা। সেসব চিরকুটে প্রশংসা-বাক্য যেমন রয়েছে, আছে কঠোর সমালোচনাও।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি জানিয়েছেন, এসব চিরকুটে কেউ লিখেছেন ব্যক্তিগত দুঃখ, কেউ চেয়েছেন হয়রানিমুক্ত পাবলিক সার্ভিস, রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, নারী-পুরুষের সমতা, শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ, ভালো শিক্ষাব্যবস্থা এবং দুর্নীতি ও আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশ। অনেকে আবার আক্রমণ-আক্রোশের ভাষাও ব্যবহার করেছেন। অনেকে করেছেন সরকারের সমালোচনাও।

‘দেশের চাবি, আপনার হাতে’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয় ভোটের গাড়ি কর্মসূচির মাধ্যমে। যেখানে প্রধান উপদেষ্টাকে ‘মনের কথা’ লিখে জানাতে স্থাপন করা হয় ‘জনমত বাক্স’। সেই বাক্সে ৩৫ হাজার ৮১৭ জন মানুষ তাদের ‘মনের কথা’ লিখেছেন।

এসব চিরকুটের মধ্যে ঢাকা বিভাগ থেকে ১০ হাজার ২১৬টি, চট্টগ্রাম থেকে ৬ হাজার ৬টি, রাজশাহী থেকে ৫ হাজার ৭৩৮টি, বরিশাল থেকে ২ হাজার ১২৪টি, খুলনা থেকে ৪ হাজার ৬৭৮টি, রংপুর ৩ হাজার ৬০৫টি, ময়মনসিংহ থেকে ১ হাজার ৭৯৯টি এবং সিলেট থেকে এসেছে ১ হাজার ৬৫১টি।

ভোটের গাড়ি সারাদেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর প্রায় ২১৬৯টি স্পটে গিয়ে প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়েছে।

ভোটের বাক্সে পাওয়া চিরকুটে গাজীপুর থেকে রাফা নামের একজন লিখেছেন, ‘আমি এদেশের মাটি ও বাতাসে নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ পাবো—ভবিষ্যতে এমন বাংলাদেশে দেখতে চাই। এরকম একটা ভবিষ্যত বাংলাদেশ গড়তে নীতি-নির্ধারক তৈরি করার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করুন। রাফা, গাজীপুর, বয়স: ১০ বছর।’

কুমিল্লা থেকে দেওয়ান সালাহউদ্দিন লিখেছেন, ‘সুষ্ঠুভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। মানুষ চায় সুষ্ঠুভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে। কেন্দ্রে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা যাবে না। আমার ভোট আমি দেবো যাকে খুশি তাকে দেবো। প্রধান উপদেষ্টা ভালো ভোট আয়োজন করবেন। শুভেচ্ছান্তে দেওয়ান সালাহউদ্দিন।’

চট্টগ্রাম থেকে গোলাম রাব্বানি লিখেছেন, ‘আমি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য কোম্পানির মালিককে সুযোগ করে দিতে বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ঠাকুরগাঁও থেকে একজন লিখেছেন, ‘গরিব মানুষ আমি, দিনমজুরি করে খাই। গরুর মাংস আমরা কিনে খেতে পারি না। বাজার নিয়ন্ত্রণ চাই, সিন্ডিকেট চলছে বাজারে। গরিব মানুষ কিনে খেতে পারছে না।’

বরিশাল থেকে সাদিক লিখেছেন, ‘যে দেশে শিক্ষকদের মান উন্নয়ন নিয়ে কেউ ভাবে না, সে দেশে সুন্দর ও আদর্শ রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব না।’

পিরোজপুর থেকে একজন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সব মানুষের অধিকার দিতে হবে। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার দিতে হবে। সবাইকে বাকস্বাধীনতার অধিকার দিতে হবে। স্বাধীন বাংলায় সবার সমান অধিকার থাকবে। পক্ষপাতিত্ব যেন না হয়। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান একসঙ্গে বাঁচতে চাই। সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা চাই।’

দিনাজপুর থেকে লিজা, বিপাশা, সুমি, লিনা, বৃষ্টি লিখেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে মনে রেখে দেশের সুন্দর এবং সুষ্ঠু সংস্কার চাই। নারী ও শিশুদের অধিকার, ধর্ষণের ১০ দিনের মধ্যে রায় কার্যকর হোক। যে দলই আসুক—যেন দেশের সংস্কারে নিয়োজিত থাকে।’

সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি জানিয়েছেন, কোনো রকম অস্বস্তি বা সংকোচ ছাড়াই সাবলীল ও আবেগাপ্লুত মন্তব্যগুলো পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, জনগণের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা অমূল্য সম্পদ। তাই কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই সব প্রশংসা, মন্তব্য, পরামর্শ, সমালোচনা ও নিন্দা সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এমইউ/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।