আঠারো মাসের অভিজ্ঞতা জানালেন সাবেক প্রেস সেক্রেটারি

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:৪১ এএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ক্ষমতা বা অর্থের প্রতি আকর্ষণ নয়—বরং কাজের পরিপূর্ণতাই ছিল লক্ষ্য। আঠারো মাসের নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্বপালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এমনটাই জানিয়েছেন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো সময়ে একটি দিনও ছুটি নেননি। কোনো কোনো কর্মদিবস শুরু হয়েছে ভোর ৬টায়, শেষ হয়েছে রাত ২টায়। গভীর রাতেও কাজের বার্তা পাওয়া ছিল নিয়মিত ঘটনা—সাম্প্রতিক একটি বার্তা আসে ভোর ৪টা ৩৮ মিনিটে।

তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূস নিজে খুব কম বিশ্রাম নেন এবং ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের কাছ থেকেও একই মাত্রার নিষ্ঠা প্রত্যাশা করেন। আমি কি কাজটি ভালোভাবে করতে পেরেছি—সেটির বিচার জনগণের, মন্তব্য করেন তিনি। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে যোগ করেন, দায়িত্ব পালনে তিনি সৎ ছিলেন এবং কাউকে ক্ষতি করেননি।

সামাজিক ও মূলধারার গণমাধ্যমে বাংলাদেশ, জুলাই বিপ্লব এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে ঘিরে ভ্রান্ত তথ্যের বিস্তার কাজকে আরও কঠিন করে তোলে বলে জানান তিনি। এ পরিস্থিতিতে প্রায় সর্বক্ষণ স্মার্টফোন ও তথ্যপ্রবাহে নজর রাখতে হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পারিবারিক জীবনে। মিথ্যার ঢেউয়ের মুখোমুখি হতে গিয়ে বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী হারানোর অভিজ্ঞতাও হয়েছে।

আঠারো মাসের সময়কালকে ‘গর্বের’ আখ্যা দিয়ে সাবেক প্রেস সেক্রেটারি বলেন, দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ তার জন্য ছিল মূল্যবান অভিজ্ঞতা। খুব কাছ থেকে একজন নোবেল বিজয়ীর কাজের ধরণ এবং উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রপরিচালনার বাস্তবতা দেখার সুযোগ পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দায়িত্বকালীন সময়ে নানা অনিশ্চয়তা ও চাপের মুহূর্তের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, স্থিরতা ও আশাবাদ তাকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান। একটি ‘উৎসবমুখর নির্বাচন’ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়াকে তিনি এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখেন।

নতুন পথচলার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আগামীকাল একটি নতুন দিন—আবারও পরিপূর্ণতার সন্ধানে নতুন যাত্রা শুরু করছি।

এমইউ/এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।