চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে রোজা শুরু
চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামের কিছু সংখ্যক মানুষ পবিত্র রোজা পালন শুরু করেছেন। মঙ্গলবার রাত থেকে তারাবির নামাজ আদায় ও ভোরে সেহেরি খাওয়ার মাধ্যমে রোজা শুরু করেন তারা। সাতকানিয়ার সোনাকানিয়ার মির্জারখীল দরবার শরীফের মুরিদরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অন্যান্য বছরের মতো এবারও একদিন আগে থেকে রোজা পালন শুরু করেন।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রমজান মাসের রোজা পালন করে আসছেন। সে হিসেবে বুধবার রোজা শুরু করেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারাসহ বিভিন্ন স্থানের অনুসারীরা।
মঙ্গলবার রাতে দরবারের মুখপাত্র মোহাম্মদ মছউদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হানাফী মাযহাবের অনুসারী হিসেবে সৌদি আরবের মক্কা ও মদীনা শরীফে তথা আরব বিশ্বে চন্দ্র উদয়ের খবর পেয়ে বুধবার আমাদের প্রথম রোজা শুরু করেছি।’
মির্জারখীল দরবার শরীফ সূত্রমতে, মির্জাখীল দরবার শরীফের প্রদর্শিত পথে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল, সোনাকানিয়া, গারাঙ্গিয়া, চরতি, মনেয়াবাদ, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, আমিলাইশ, খাগরিয়া ও গাটিয়াডাঙ্গা, লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, চুনতি ও চরম্বা, বাঁশখালী উপজেলার কালিপুর, জালিয়াপাড়া, ছনুয়া, মক্ষিরচর, চাম্বল, শেখেরখীল, ডোংরা, আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ, বরুমচড়া, পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, বাহুলী ও ভেল্লাপাড়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, রাউজান ও ফটিকছড়ির বেশ কয়েকটি গ্রামসহ চট্টগ্রামের অর্ধ–শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক অনুসারী বুধবার প্রথম রোজা পালন করেন।
এছাড়া বোলায়খালী, চন্দনাইশ, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, পার্বত্য চট্টগ্রামের লামা, আলীকদম, নাইক্ষংছড়ি, কক্সবাজারের টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, হাতিয়া, নোয়াখালী, চাদঁপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও ভারত, পাকিস্থান, মিয়ানমারসহ বিশ্বের বিভিন্নস্থানে যেখানে মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা আছেন তারা বুধবার থেকে রোজা পালন শুরু করেন।
মির্জারখীল দরবার শরীফের মুরিদ ও মির্জারখীল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক নুরুল কবির চৌধুরী বলেন, আমাদের পুরো গ্রামের মানুষ বুধবার (আজ) থেকে রোজা পালন শুরু করেছেন। চট্টগ্রামের অন্তত অর্ধ–শতাধিক গ্রামে থাকা দরবার শরীফের মুরিদরাও রোজা পালন শুরু করেছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মির্জারখীল দরবার শরীফের মুরিদরা একই সঙ্গে রোজা পালন শুরু করেছেন। আমরা সবাই মঙ্গলবার থেকে তারাবির নামাজ আদায় ও সেহেরি খাওয়া শুরু করেছি। মির্জারখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা আড়াই শতাধিক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা পালন করে আসছেন। আমরা ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহাও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে উদযাপন করি।
এমডিআইএইচ/এমআইএইচএস