মব সৃষ্টিকারীদের শাস্তির মাধ্যমে বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৭ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজারে অভিযানে বাধা দেওয়া ও মার্কেট বন্ধের হুমকির প্রতিবাদ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভুঁইয়া। এসময় ক্যাবের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

ক্যাব সাধারণ সম্পাদক বলেন, পণ্য ক্রয়ের বৈধ ক্যাশ মেমো সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, গত বছর বাজারে উচ্চমূল্যের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে রোজায় ব্যবহৃত তরমুজ ও লেবুর মতো পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। এবারও রোজার আগে ব্যবসায়ীরা বেআইনি ও অনৈতিকভাবে পণ্যের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু রোজার আগের দিনই তারা পণ্যের দাম বাড়ান এবং বাজার তদারকিতে বাধা সৃষ্টি করে সিন্ডিকেটকে সামনে আনেন।

মানববন্ধনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বাড়তি দামে পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে জরিমানা করলে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকি কার্যক্রমে বাধা দেওয়া এবং বাজার বন্ধের হুমকি দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে বাজার সিন্ডিকেট কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এরা সরকারের ঊর্ধ্বে থাকা মাফিয়াদের পাইকারি বাজার পর্যায়ের সংস্করণ। জনজীবন বিপর্যস্তকারী এই সিন্ডিকেট যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।

রাস্তার মব এখন বাজারের সিন্ডিকেটে রূপ নিয়েছে। মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরাতে এই মব-সিন্ডিকেট দূর করতে হবে

ক্যাবের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার (অব.) সামছ এ খান বলেন, রোজা শুরুর আগের দিন কেজিতে ৫ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগে বাজার তদারকি কর্মকর্তা জরিমানা করেন। কিন্তু জরিমানা করার পর ব্যবসায়ী সমিতি বাজার বন্ধের হুমকি দেয় এবং পরে দাম আরও বাড়ায়। এর প্রভাব সারাদেশের বাজারে পড়েছে। রোজা এখনো প্রথম সপ্তাহে রয়েছে।
এখনই ব্যবস্থা না নিলে সিন্ডিকেট আরও দাম বাড়াবে। যে কোনো মূল্যে এই অব্যবস্থাপনা রোধ করতে হবে।

এসময় ক্যাবের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিমূলক অভিযানে বাধা দেওয়া ও মার্কেট বন্ধের হুমকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

২. বাজারে তদারকি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় সহায়তা নিশ্চিত করা।

৩. ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, অসচ্ছ লেনদেন ও কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ।

৪. পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বৈধ ক্যাশ মেমো প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।

৫. ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ঢাকাসহ সারাদেশে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা।

এনএস/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।