রাজধানীতে ডাকাতি ও হানি ট্র্যাপের ঘটনায় গ্রেফতার ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৪ পিএম, ০১ মার্চ ২০২৬
গ্রেফতার ছয়জন

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতি ও হানি ট্র্যাপের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে খিলক্ষেত থানা পুলিশ।

রোববার (১ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতাররা হলেন- শাহাপরান (৩০), আফজাল হোসেন (৪০), হানিফ (৪০), সাগর হাওলাদার (২৮), নাসিফ অঙ্কন (২৮) ও ফরহাদ সোহান (৩৩)

খিলক্ষেত থানার বরাত দিয়ে তালেবুর রহমান বলেন, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর খিলক্ষেত থানার লেকপাড় সংলগ্ন পাকা রাস্তার ওপর সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় শাহাপরান, আফজাল হোসেন ও হানিফকে গ্রেফতার করে খিলক্ষেত থানা পুলিশ।

এ সময় গ্রেফতারদের হেফাজত থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মিনি ট্রাক ও নয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

হানি ট্র্যাপের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিকটিম মো. জসিম উদ্দিন (৩৮) বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাস করেন। তার সঙ্গে ফেসবুকে হাফিজা নামের এক তরুণীর পরিচয় হয়। হাফিজা তার মোবাইল দিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে হাফিজা খিলক্ষেত রাজউক মার্কেটের উত্তর পাশের গেটে দেখা করার কথা বলেন। ভিকটিম মো. জসিম সেখানে অপেক্ষা করলে গ্রেফতার সাগর, অঙ্কন ও ফরহাদ তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। হাফিজা রাজউক মার্কেটের চতুর্থ তলার একটি রেস্টুরেন্টে আছে বলে তাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

সন্দেহ হলে জসিম যেতে অস্বীকার করেন। এরপর গ্রেফতাররা তাকে জোর করে আটক করে মারধর করে রেস্টুরেন্টে নিয়ে যান। পরে সেখানে তাকে আটকে রেখে মোবাইল ফোন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নগদ ১ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেন এবং আরও টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তারা মোবাইল ও লাইসেন্স রেখে দেন এবং যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর দেন। পরে ২০ হাজার টাকা দিয়ে মোবাইল ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন।

এ ঘটনায় ভিকটিম মো. জসিমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খিলক্ষেত থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়। মামলার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য বিশ্লেষণ করে গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজউক মার্কেটের সামনে থেকে সাগর হাওলাদার ও নাসিফ অঙ্কনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ফরহাদ সোহানকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় গ্রেফতারদের হেফাজত থেকে ভিকটিমের ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তালেবুর রহমান বলেন, গ্রেফতাররা ও পলাতক হাফিজা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েদের নামে ফেক প্রোফাইল খুলে যুবকদের টার্গেট করতেন বলে স্বীকার করেছেন।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

কেআর/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।