খামেনি হত্যা আন্তর্জাতিক আইন-নীতির সরাসরি লঙ্ঘন: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। সরকার মনে করে, খামেনি হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।
সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনির মৃত্যু হয়েছে বিষয়টি রোববারে দেওয়া বিবৃতিতে সরাসরি উল্লেখ ছিল না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত বাংলাদেশ সরকার। সরকার মনে করে, সহিংসতার মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। এ ঘটনায় ইরানের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়েছে।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এ হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
হামলার জবাবে শনিবার ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায় দেশটি।
এর আগে রোববার (১ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা’ ঘটেছে এবং এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার নিন্দা জানায়। তবে ওই বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি ইরানে হামলার ঘটনাও সরাসরি সমালোচনা করা হয়নি।
এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে সোমবার নতুন বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, সংঘাত কোনো সমাধান বয়ে আনে না। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব।
বাংলাদেশের দৃষ্টিতে, শান্তিপূর্ণ ও সংলাপভিত্তিক পদক্ষেপই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একমাত্র উপায়। নতুন বিবৃতিতেও হামলাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
জেপিআই/এমএএইচ/