ভেপ পণ্যে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার দাবি ব্যবসায়ীদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৪ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫- এর আওতায় ইলেকট্রনিক নিকোটিন সরবরাহ ব্যবস্থা (ইএনডিএস) বা ভেপ পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যবসায়ী সমিতি (বেন্ডস্টা)।

সংগঠনটি বলছে, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশে ইএনডিএস খাতের প্রতি নীতিগত বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বেন্ডস্টার সভাপতি সুমন জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি আনিস খান, মহাসচিব রেজওয়ান আহমেদ ও এজিএম তৌফিক আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে বেন্ডস্টার পক্ষ থেকে বলা হয়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫- এর ধারা ৬ (গ)- এর মাধ্যমে ইএনডিএস বা ভেপ পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে, এই ধারার সাংবিধানিক বৈধতা এরইমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। রিট পিটিশন নং ১৮৭৮/২০২৬–এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রুল জারি করেছেন এবং দেশে বৈধভাবে আমদানিকৃত ভেপ ও ই-সিগারেট পণ্য বাজেয়াপ্ত না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সংগঠনটির দাবি, তারা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ইএনডিএস খাতে বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তাদের মতে, বিশ্বব্যাপী অনেক ক্ষেত্রে ই-সিগারেট বা ভেপকে ধূমপানের ক্ষতি হ্রাসের একটি বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাও ধূমপান ত্যাগে সহায়ক উপায় হিসেবে ই-সিগারেট ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করেছে বলে তারা জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে নিকোটিনযুক্ত ই-সিগারেট নিকোটিন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ কার্যকরভাবে ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করতে পারে। একইভাবে কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ই-সিগারেটকে ধূমপানের তুলনায় কম ক্ষতিকর বলে মত দিয়েছে। যদিও এটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়।

বেন্ডস্টার অভিযোগ, সংশোধিত অধ্যাদেশটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ করা হয়নি এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, এতে একদিকে দাহ্য তামাকজাত পণ্যের বাজার কাঠামো বহাল রাখা হয়েছে, অন্যদিকে ইএনডিএস খাতকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ভেপ বা ইএনডিএস ব্যবহার করেন, যাদের অনেকেই ধূমপানের বিকল্প হিসেবে এটি গ্রহণ করেছেন। সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বাজারটি কালোবাজারের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে বেন্ডস্টা জানায়, তাদের অধীনে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ৬০০-এর বেশি চেইন স্টোর পরিচালিত হচ্ছে। এই খাতে বহু উদ্যোক্তা ও কর্মচারীর জীবিকা জড়িত থাকায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সংগঠনটি চারটি সুপারিশ তুলে ধরে। এগুলো হলো- সংশোধিত অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা, সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিয়ে স্বচ্ছ পর্যালোচনা প্রক্রিয়া গঠন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে বয়সসীমা, লাইসেন্স, মান নিয়ন্ত্রণ ও করব্যবস্থাসহ নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়ন এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, যুবসমাজের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সংরক্ষণ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ সবদিক বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।

এমএএস/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।