ফজলুর রহমান

ঢাবিতে যদি ‌‘গাছের ডালে কাউয়া’ স্লোগান হয় তাহলে মানবাধিকার আসবে না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬
সংলাপে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান

দেশে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়ন হলেই মানবাধিকার থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ এর সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। একইসঙ্গে দেশে মানবাধিকারের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ঠিক করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মানবাধিকারের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি গাছের ডালে কাউয়া স্লোগান হয় তাহলে কোনোদিন মানবাধিকার আসবে না।’

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান প্রমুখ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, ‘স্পষ্টভাবে বলতে চাই বাঙালি জাতিকে যদি ঠিক করতে হয় মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পথে আসতে হবে। কেউ মুক্তিযুদ্ধ স্বীকার করে না। কেউ স্বীকারই করে না। বলে একাত্তরই নাকি হইছে না। মুক্তিযুদ্ধ হলেই মানবাধিকার থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়ন হলেই মানবাধিকার থাকবে।’

দেশে মানবাধিকারের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ঠিক করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন কিশোরগঞ্জ-৪ এর সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান।

ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তানে আইন আদালত কিচ্ছু ছিল না। পাকিস্তান আমাদের অন্যায়ভাবে শোষণ-শাসন করছে। তখন স্লোগান দিয়েছিলাম- ‘তুমি কে আমি কে বাঙালি’। ১১ দফা করলাম ছাত্র সমাজ। তখন আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ি। এরপরে আসলো ৭০ এ নির্বাচন। বাঙালিরা একসঙ্গে ভোট দিলাম। একটা দলের একজনকে নেতা বানালাম। সিট দিলাম ৩০০ সিটের মধ্যে ১৬৭টা। মেজরিটি হইলো। ক্ষমতা পাইলাম না। যুদ্ধ করলাম দেশ স্বাধীন করলাম। রক্তের সাগর সৃষ্টি হলো। মুক্তি পাইলাম না।

তিনি বলেন, এখন আবার যুদ্ধের ৫৪-৫৫ বছর পরে চিন্তা করতে হচ্ছে মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ কিরকম করা উচিত। এই দেশটা কেন তবে সৃষ্টি করা হয়েছে?

তিনি বলেন, মার্চ মাসে এখানে কথা বলছি। আজ সেই মার্চ মাসে বসে আমাকে একদিন দেখতে হলো হঠাৎ করে একটা ভাষণ বাজানোর জন্য একটা ছেলেকে এমন পেটানো হচ্ছে যে ও মরেই যাবে। আমি মুক্তিযুদ্ধের সেই ভাষণটার দিন রেসকোর্স ময়দানে বসা ছিলাম। আমার জায়গাটা আমি হিসাব করে রাখছি। ওই ভাষণটা বাজানোর জন্য একটা ছেলেকে মেরেই ফেলবে, আর আরেকটা মেয়ে মায়ের মতো চেষ্টা করছে। আর কেউ বাঁচাইতে আসছে না। দেখে মনে হলো আমার চোখটা কি অন্ধ হয়ে যাওয়া ভালো! মানবাধিকার তো গেছে। একটা ভাষণ বাজানোর জন্য একটা ছেলেকে এভাবে পেটাতে হবে? আমরা কিন্তু সবাই এখন নিষ্ঠুর হয়ে গেছি।

প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ বলেন, গত ১৫ বছরের একটা সরকার তিনটা ইলেকশন করলো, একবার বিনা ভোটে, একবার দিনের ভোট নিশিরাতে। আরেকবার ডামি ইলেকশন করলো, বাংলাদেশ গণতন্ত্র শেষ করে দিয়ে তারা চলে গেলো। এরপর আসলো ১৮ মাসের আরেকটা সরকার, নোবেল প্রাইজ পাওয়া লোককেও আনলাম। এখন দেখেন পত্রিকায় কী বের হচ্ছে।

ফজলুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাকালে আমি স্লোগান দিতাম ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা।’ এখন স্লোগান দেয়- ‘এক দুই তিন চার গাছের ডালে কাউয়া।’ আমরা আগাচ্ছি কত?

তিনি বলেন, মানবাধিকার আইনটা আমার মনে হয় সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে। কারণ আমাদের নেতার নাম তারেক রহমান। ২২ দিন ধরে আমাদের সরকার চলছে তারেক রহমানের সরকার। বিএনপি সরকার অনেকগুলো ভালো কাজ করছে। আপাতত দেখা যাচ্ছে শুরুটা ভালো। যার শুরু ভালো তার শেষ ভালো হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার আনতে চাইলে দেশের প্রথম বদলাতে হবে শিক্ষাব্যবস্থা। আপনারা বাড়ির ভেতরে নোংরা ড্রেন রাখবেন আর বলবেন মশা যাতে না হয়, এটা কোনো দিন হবে না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে ত্রুটি হয়ে আছে, হয়ে যাচ্ছে।

ইএইচটি/এসএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।