তিন দিনের ‘বাড়তি’ ছুটি, ঈদের ফিরতি ট্রেনে যাত্রীর চাপ কম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৩ পিএম, ২৬ মার্চ ২০২৬
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীর চাপ কম-ছবি জাগো নিউজ

এবার ঈদের ছুটি যেন শেষ হয়েও হচ্ছে না। উৎসবের লম্বা ছুটির শেষে পড়েছে স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক বন্ধ। এতে আরও তিন দিনের বাড়তি ছুটি পেয়েছে মানুষ। আয়েশি এ ছুটিতে ঈদের ষষ্ঠ দিনেও গ্রাম থেকে শহরে ফেরার চেয়ে ঢাকা ছাড়ছেন বেশি মানুষ। ছুটি কাটিয়ে শনি অথবা রোববার ঢাকায় ফিরবেন অধিকাংশ কর্মজীবী। এতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে চাপ তুলনামূলক কম। নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে এবং যাত্রী ও রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, স্টেশন ফাঁকা এবং চারদিকে সুনসান। শুধুমাত্র ট্রেন আসা ও ছাড়ার সময়ে কুলিদের হাঁকডাক ও যাত্রীদের সাময়িক কোলাহল শোনা যাচ্ছে। টিকিট কাউন্টারগুলোও ফাঁকা। কিছুটা অলস সময় কাটছে কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা রেল কর্মকর্তাদের। প্রবেশপথে চাপ না থাকায় গল্পে-আড্ডায় সময় কাটছে রেলের নিরাপত্তাকর্মীদেরও।

jagonews24

স্টেশনের প্রবেশপথে দায়িত্ব পালন করা নিরাপত্তাকর্মী ইমরান হোসেন বলেন, ‘এখনো ভিড় হয়ে পারেনি। যাত্রীরা আরামে আইতাছে, আরামে যাইতাছে। শুক্রবার রাতের ট্রেন থেকে শনি-রোববার পর্যন্ত চাপ হইবো।’

এদিকে, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত স্টেশনে ঘুরে প্ল্যাটফর্মগুলো ফাঁকা দেখা যায়। ওই সময়ের মধ্যে ঢাকার বাইরে থেকে দুটি ট্রেন স্টেশনে আসতে দেখা যায়। তাতে টিকিট ছাড়া স্ট্যান্ডিং যাত্রী খুবই কম। যাত্রীদের ট্রেন থেকে নির্বিঘ্নে নেমে স্টেশন ছাড়তে দেখা যায়।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অধিকাংশই গত ১৭ মার্চ ঢাকা ছেড়েছিলেন। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরছেন। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের রেখে নিজে আগে ঢাকায় এসেছেন বলেও জানান। তাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা আসবে আরও এক সপ্তাহ পরে।

অন্যদিকে, যারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি যেতে পারেননি, তারা তিন দিনের ছুটিতে গ্রামে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ঈদের ছুটি শেষে দুই দিন অফিস করে তিন দিনের ছুটিতে আবারও বাড়ি যাচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এবার ঢাকায় আসা।

রাজশাহী থেকে বনলতা এক্সপ্রেসে ঢাকায় এসেছেন শামীম হোসেন। তিনি বলেন, ‘ছুটি আরও তিন দিন আছে। কিন্তু আগেই টিকিট করে রেখেছিলাম, সেজন্য চলে এলাম। ঝামেলা নেই, নিরিবিলি জার্নি করে এলাম; এটাই ভালো।’

একই ট্রেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে ঢাকা আসা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেন লেট নেই, ভিড়ও নেই। দুই দিন পর হয়তো ভিড় বাড়বে। আমরা খুব ভালোভাবে চলে এসেছি।’

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন জাগো নিউজকে জানান, বেলা ১১টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসেছে ৯টি ট্রেন। আর ঢাকা থেকে ছেড়ে গেছে ছয়টি ট্রেন। সব ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে। কোনো ট্রেন লেট নেই। আসা-যাওয়ার কোনো ট্রেনে তেমন চাপ নেই। সবাই স্বাভাবিকভাবে ভ্রমণ করছেন।

এদিকে, রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ বিভিন্ন জেলায় যেসব ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে, সেগুলোর টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। মানুষ অনেক আগে থেকেই তিন দিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছেন। যারা বুধবার রাতে বাড়ি যেতে পারেননি, তাদের অনেকে সকালের ট্রেনে ঢাকা ছেড়েছেন।

এএএইচ/এসএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।