নগর পর্যায়ে জিরো-ওয়েস্ট মডেল বাস্তবায়নের আহ্বান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২৭ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২৬
নগর ভবনে গোলটেবিল বৈঠক ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়

ঢাকা নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শক্তিশালী করা এবং জিরো-ওয়েস্ট শহরের দিকে উত্তরণকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে এক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে ‘নগর পর্যায়ে জিরো ওয়েস্ট ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠক ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসডো।

গত রোববার (২৯ মার্চ) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ঢাকার বর্জ্য অব্যবস্থাপনা মোকাবিলা এবং টেকসই ও প্রসারণযোগ্য সমাধান চিহ্নিত করতে আলোচনা করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন- নীতিনির্ধারক, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, যুব প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং উন্নয়ন সহযোগীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত ও দ্রুত নগরায়ণের ফলে ঢাকা শহর ক্রমাগত বর্জ্যের স্তূপের মুখোমুখি হচ্ছে, যার একটি বড় অংশই সঠিক ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। নাগরিক পর্যায়ে বর্জ্য ফেলার সঠিক নিয়মাবলি প্রায়শই উপেক্ষিত হয়, আবার সিটি কর্তৃপক্ষের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিও এখনো আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। এর ফলে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি, গ্রিনহাউস গ্যাস (মিথেন) নিঃসরণ এবং ডাম্পিং সাইট থেকে নির্গত দুর্গন্ধের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, আমাদের ‘জিরো ওয়েস্ট’ শহরের লক্ষ্য তখনই বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, যখন নগরবাসী এবং প্রশাসন উভয়ই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। নগর প্রশাসক হিসেবে আমরা অব্যবস্থাপিত বর্জ্যের নানান নেতিবাচক পরিণতির কথা জানতে পারি। যেমন- ল্যান্ডফিলের বর্জ্যের কারণে কর্মীরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে আশার কথা হলো, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে ডিএসসিসি এবং শিক্ষাবিদদের সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বৈঠক করেছেন। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডিএসসিসির সিইও মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য আসলে কোনো ফেলনা বস্তু নয়, এটি একটি সম্পদ। সরকার, সুশীল সমাজ এবং বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে জিরো-ওয়েস্ট মডেলে রূপান্তর করা সম্ভব। পলিথিন বর্জন করার মতো ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।

আরও পড়ুন
৮ এপ্রিলের আগে শেষ হবে ক্রুডের মজুত, বন্ধের হুমকিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি 
স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে বিকল্প খোঁজার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর 

আলোচনায় উৎসে বর্জ্য হ্রাস, বর্জ্য পৃথকীকরণ প্রথা চালু, কমিউনিটি-ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেলের সম্প্রসারণ এবং কম্পোস্টিং ও মিথেন হ্রাস কৌশলের মাধ্যমে পচনশীল ও খাদ্য বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একটি পরিষ্কার ও সবুজ ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে বর্জ্য কমানোর পাশাপাশি পুনর্ব্যবহার সংস্কৃতির ওপরও জোর দেওয়া হয়।

ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে আমরা প্রতিদিনের ৩ হাজার ৩০০ টন বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করছি, যার ৬৮ শতাংশ জৈব বর্জ্য। আমাদের নতুন ৮১ একরের রিসোর্স সার্কুলেশন সেন্টারে বায়োগ্যাস, বিদ্যুৎ, শিল্প জ্বালানি, পোল্ট্রি ফিড এবং ইকো-ব্রিকস তৈরি হবে। বর্তমান ল্যান্ডফিল থেকে গ্যাস সংগ্রহ এবং সোলার প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বছরে ১৫ হাজার টন মিথেন হ্রাস এবং ৪ লাখ ৬৫ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রুবিনা ফেরদৌসী আশ্বস্ত করে বলেন, মন্ত্রণালয় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে স্কুল পর্যায়ে বর্জ্য হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। আমরা ভবিষ্যতে বর্জ্যমুক্ত ক্যাম্পাস দেখতে চাই। সিটি করপোরেশনের সব গঠনমূলক উদ্যোগে আমরা পাশে আছি।

মুক্ত আলোচনার সঞ্চালক এবং এসডোর সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং ধারাবাহিকতার অভাবে অনেক সময় সাফল্য বাধাগ্রস্ত হয়। কিন্তু আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলে কোনো চ্যালেঞ্জই আমাদের রুখতে পারবে না। এসডোর কার্যক্রম, প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে জিরো-ওয়েস্ট মডেল গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশকে একটি জিরো-ওয়েস্ট রাষ্ট্রে পরিণত না করা পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম থামবে না।

গোলটেবিল বৈঠকে তরুণ সমাজ এবং কমিউনিটি প্রতিনিধিরা বর্জ্য সুব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও তৃণমূল পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানটি একটি পরিষ্কার, স্বাস্থ্যকর এবং জিরো-ওয়েস্ট ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৌশল প্রণয়নের অঙ্গীকারের মাধ্যমে শেষ হয়।

এনএইচ/কেএসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।