পাম্পে পাম্পে ভিড়, ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়ে ধোঁয়াশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৫ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর তেল পাম্পগুলোর চিত্র-ছবি জাগো নিউজ

ইরানে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের সংকটে পড়েছে গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশেও জ্বালানি তেল নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর তেল পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। ছুটির দিন বা কর্মদিবস—কোনো দিনই ফাঁকা থাকছে না রাজধানীর তেল পাম্পগুলো। ফলে প্রতিদিনের মতো আজও রাজধানীর তেল পাম্পগুলোতে জ্বালানি পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন সাধারণ মানুষ। পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ লাইন।

এদিকে তেলের এই সংকটাপন্ন সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অধীনস্থ কোম্পানির ফিলিং স্টেশনগুলোতে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন তেল পাম্প ঘুরে সরেজমিনে কোথাও ট্যাগ অফিসারের দেখা মেলেনি। আবার কোনো কোনো পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের দেখা পেলেও অধিকাংশ পাম্প মালিক ট্যাগ অফিসারের দেখা পাননি। কেউ কেউ বলছেন, তারা ট্যাগ অফিসারদের চেনেন না। ফলে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।

jagonews24

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর আসাদগেট তালুকদার ফিলিং স্টেশন, সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন, পরিবাগের পূর্বাচল ফিলিং স্টেশন, মেঘনা ফিলিং স্টেশন এবং বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন ঘুরে ও পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে পাম্পগুলোতে দেখা গেছে, ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনের সামনে থেকে মহাখালীমুখী যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। মেঘনা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে পিজি হাসপাতালমুখী যানবাহনের দীর্ঘ লাইনও দেখা গেছে।

পূর্বাচল ফিলিং স্টেশনে দুপুর ২টার দিকে তেল না থাকায় তেল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।

jagonews24

এছাড়া আসাদগেট এলাকার তালুকদার পাম্পের সামনে থেকে গণভবন হয়ে জিয়া উদ্যান পর্যন্ত সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। একইভাবে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে আসাদগেট হয়ে টাউন হলমুখী সড়কেও দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

মেঘনা ফিলিং স্টেশনের তেল বিক্রয় প্রতিনিধি রবিন বলেন, ট্যাগ অফিসাররা এসে সব সময় পাম্পে থাকেন না। তারা আসেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন, সমস্যার কথা শোনেন, সুযোগ-সুবিধা দেখেন এবং কতটুকু তেল আছে তা দেখে লিখে নিয়ে চলে যান। তারা এক জায়গায় কাজ করছেন না, বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখছেন।

একই পাম্পের আরেক বিক্রয় প্রতিনিধি ইয়াসিন বলেন, আমাদের পাম্পে সকাল থেকেই তেল দেওয়া হচ্ছে। আমরা আসার আগেই, ফজরের আজান দিলেই লাইন দাঁড়িয়ে যায়। আমরা সকাল ৮টা থেকে তেল বিক্রি শুরু করি।

jagonews24

একই পাম্পে কথা হয় মেঘনা পেট্রোলিয়ামের প্রধান সহকারী মোবারক হোসাইনের সঙ্গে। ট্যাগ অফিসারদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকাল একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমাদের এখানে যে সেকেন্ড ম্যান আছেন, তাকে আমাদের পাম্পসহ আরও ছয়টি পাম্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি সম্ভবত একদিনের মধ্যেই পরিবর্তন হয়েছে। তবে এ পরিবর্তনের কোনো চিঠি এখনো আসেনি। আমাদের এখানেও নাকি একজন ট্যাগ অফিসার ছিলেন, কিন্তু সকাল থেকে তাকে দেখিনি।

পূর্বাচল ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার জাফর আহমেদ বলেন, তারা সেভাবে পরিচয় দিচ্ছেন না। কে বা কারা—আমরা চিনি না।

তেল সরবরাহ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের তেল আনতে গাড়ি গেছে। তেলের গাড়ি এলে আমরা আবার সরবরাহ শুরু করব।

ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনের বিক্রয় দায়িত্বে থাকা কামাল হোসেন বলেন, আমাদের এখানে এখনো কেউ দায়িত্বে আসেননি।

jagonews24

আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার তন্ময় বলেন, সকালে একজন ট্যাগ অফিসার এসেছিলেন। তিনি এসে সব রিপোর্ট লিখে নিয়ে গেছেন।

সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার হৃদয় বলেন, সকালে দুজন ট্যাগ অফিসার এসে তেলের গাড়ির কাগজপত্র ও সরবরাহ ঠিক আছে কি না তা দেখেছেন। এরপর পাম্পের মজুত পরিস্থিতি পরীক্ষা করে চলে গেছেন।

এদিকে এর আগে শনিবার (২৭ মার্চ) বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, বিপিসির অধীনস্থ কোম্পানির ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মহানগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ট্যাগ অফিসাররা সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের জ্বালানি পণ্য গ্রহণ, সরবরাহ ও সর্বশেষ মজুত পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করবেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ কার্যক্রম চালু রয়েছে।

কেআর/এসএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।