চার ঘণ্টা লাইনে থেকেও তেল মিললো না, মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষোভ
রোববার, রাত সাড়ে ৯টা। রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ের এক ফিলিং স্টেশনে হ্যান্ড মাইক হাতে এক তরুণ ঘোষণা দিলেন- ‘আজ আর কাউকে তেল দেওয়া হবে না, আপনারা আগামীকাল সকাল ৮টায় আসুন।’ ঘোষণা শোনামাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষমাণ কয়েকশ মোটরসাইকেল চালক। চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ার খবরে সেখানে হইচই, চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়।
লাইনে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চার ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি। পলাশীর মোড় থেকে ধীরে ধীরে সামনে এলাম। এখন এসে শুনি তেল দেওয়া হবে না- এটা মেনে নেওয়া যায়?’
তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আরও কয়েকজন চালক অভিযোগ করেন, পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কৌতূহলবশত ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পের শাটার খোলা থাকলেও কর্মচারীরা কার্যত অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। স্টেশনজুড়ে এলোমেলোভাবে সারিবদ্ধ অসংখ্য মোটরসাইকেল। কে আগে এসেছেন- তা নিয়ে চালকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে তৎপর থাকতে দেখা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাম্পের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের কিছু মজুত থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। তাদের ভাষায়, ‘লাইন এতটাই বিশৃঙ্খল যে কাকে আগে তেল দেবো, তা নির্ধারণ করা কঠিন। এর আগেই ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তাই বাধ্য হয়ে পুলিশ ডাকা হয়েছে।’
আরও পড়ুন
পথে পথে তেল নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস
সিন্ডিকেটের দখলে পেট্রোল পাম্প, রাতে চলে ‘সিরিয়াল’ কেনাবেচা
এ চিত্র শুধু নীলক্ষেতেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে একই পরিস্থিতি দেখা গেছে।
গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডের গুদারাঘাট এলাকায় দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। মধ্য বাড্ডায় (প্রাণ-আরএফএল সেন্টারের পাশে) একটি ফিলিং স্টেশনেও শত শত মোটরসাইকেল চালক তেল নেওয়ার অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘিরে এমন অস্থিরতার মধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি- বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রভাব দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি করছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র।

সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলা হলেও বাস্তবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড়- এ দৃশ্য এখন নিয়মিত।
পরিস্থিতি দেখে অনেকের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জ্বালানি সরবরাহে আরও বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি তেল সরবরাহ ঘিরে অস্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে বাড়ছে সন্দেহ। কোথাও কোথাও অবৈধ মজুতের অভিযোগও উঠছে।
সামগ্রিকভাবে দিন দিন জ্বালানি তেলের সংকট তীব্রতর হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ চালকরা। এখন সবার প্রশ্ন- এ সংকট সামাল দিতে দ্রুত কী পদক্ষেপ নেয় সরকার।
এমইউ/কেএসআর