৮ বছরে ইলিশের সর্বনিম্ন উৎপাদন, বাড়ানোকে চ্যালেঞ্জ বললেন মন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২০ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ

গত আট বছরের মধ্যে ইলিশের সর্বনিম্ন উৎপাদন হয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে। গত বছর জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের পর এটিই সর্বনিম্ন উৎপাদন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোকে বিরাট চ্যালেঞ্জ বলছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ -২০২৬’ উপলক্ষে সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ গত অর্থবছরের ইলিশ উৎপাদনের তথ্য তুলে ধরেন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ টন হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নদী ভরাট, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীদূষণ ও মৎস্য সম্পদের ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধির ফলে ইলিশ মাছ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনাদের সবাইকে নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এগিয়ে যাবে।

গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এআরআইএমএ মডেল অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার থেকে পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার টন হতে পারে। তবে উৎপাদন হ্রাসের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে প্রকৃত উৎপাদন আরও কম হতে পারে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উৎপাদন ৫ লাখ টনের নিচে ছিল। ওই বছর ইলিশের উৎপাদন হয় ৪ লাখ ৯৬ হাজার টন। এরপর ২০২৩-২৪ পর্যন্ত উৎপাদন ৫ লাখ টনের ওপরে থাকে। গত বছরে উৎপাদন ৫ লাখ টনে নেমে আসে।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইলিশের উৎপাদন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫ লাখ ২৯ হাজার টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৬ হাজার টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ লাখ ৫০ হাজার টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫ লাখ ৩২ হাজার টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন।

অর্থাৎ, গত আট বছরের মধ্যে গত বছরই সর্বনিম্ন ইলিশের উৎপাদন হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, জনসাধারণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জেলেদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইলিশ মাছের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। দেশজ জিডিপিতে ইলিশের অবদান প্রায় ১ শতাংশ। বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আহরিত হয় এদেশের নদ-নদী, মোহনা ও সাগর থেকে।

ইলিশ আহরণকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য তথা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশর প্রায় ৬ লাখ লোক ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০-২৫ লাখ লোক ইলিশ পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি ইত্যাদি কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই ইলিশ সম্পদের উন্নয়নের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের হাতের নাগালে ইলিশ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

জ্বালানি তেলের অভাবে সমুদ্রে ট্রলার নিয়ে জেলেরা যেতে পারছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেল নিয়ে এখন পর্যন্ত মেজর কোনো সমস্যা নেই। জরুরি খাতগুলোতে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ইলিশের অতিরিক্ত দামের পেছনে যদি অন্য কোনো অনিয়ম থাকে সেটি সরকার দেখবে। ইলিশ পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় জলসীমায়ও ইলিশ ধরা বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।

এক প্রশ্নের জবাবে আমিন উর রশিদ বলেন, নদীগুলোতে চর পড়ার কারণে ইলিশের উৎপাদন কমে গেছে। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে হলে ওই জায়গাগুলো পরিষ্কার করতে হবে। এজন্য আমাদের নদী এবং খাল খনন কর্মসূচি নেওয়া আছে। আমরা ওই জায়গাগুলো পরিষ্কার করব যেন ইলিশ ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, সরকারের পক্ষ থেকে একটি জেলে পরিবারকে দুই মাসের জন্য ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ কেজি তেল, ৮ কেজি ডাল, ৪ কেজি চিনি এবং ১৬ কেজি আলু দেওয়া হয়েছে। একজন জেলে পরিবার প্রায় ছয় হাজার টাকার পণ্য সামগ্রী পাচ্ছেন। এই প্রথম ৪০ হাজার জেলেকে এ পরিমাণ খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ সহায়তা গতবারের তুলনায় অনেক বেশি।

জেলেদের খাদ্য বিতরণসহ অন্য যে কোনো ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

আরএমএম/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।