বগুড়া-শেরপুরে ভোট
অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দ্রুত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন চায় ইসি
শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোট জালিয়াতিসহ অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এ বিষয়ে দুই আসনের সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছি। আমি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট চেয়েছি।’
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর ভোট বর্জনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘কেন করেছে সেটা তাদের জিজ্ঞাসা করেন। আমরা নির্বাচন আয়োজন করেছি, আমরা তো বলিনি নির্বাচন বর্জন করতে। আমি শুনেছি, পৌনে ৪টায় জাল ভোটের কারণে জামায়াত বয়কট করেছে। সারাদিন ধরে ভোট গেল, এখন শেষ হওয়ার ২০ মিনিট আগে জাল ভোট! আচ্ছা ঠিক আছে। এটা তাদের রাজনৈতিক ব্যাপার, এ নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই। তবে আমি আমার কর্মকর্তাদের বলেছি একটি প্রতিবেদন দিতে। আর ফলাফল যেন দেরি না হয়, কারণ ফলাফল তো দিতে হবে।’
আজ দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের ভোটে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তোলে জামায়াত। এসময় দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট শুরুর আগেই এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফলের শিটে স্বাক্ষর নিয়ে নেন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এদিকে, বিকেলে শেরপুরে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান। তিনি দাবি করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভব নয়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। জাল ভোট এবং প্রকাশ্যে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে।
মাসুদুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, এসব অনিয়ম নিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
এমওএস/একিউএফ