নতুন রূপে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
কিছুক্ষণ আগেই পুরান ঢাকায় বৃষ্টি নামে। আচমকা বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই আশ্রয় নেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে। আশ্রয় নেওয়ার সেই মুহূর্তটাই যেন হয়ে ওঠে এক নতুন অভিজ্ঞতা। কার্যালয়ের সামনে নতুন করে লাগানো সারি সারি ফুলের গাছগুলো বৃষ্টিতে ধুয়ে ঝকঝক করছিল। শেষ বিকেলের আলোয় গাছের পাতায় জমে থাকা পানির ফোঁটা যেন ঝিলমিল করছিল।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে কার্যালয়ে ফটকে বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় থেকে দেখা গেলো, পুরান ঢাকার ব্যস্ততার মাঝেই হঠাৎ নেমে আসা একপশলা বৃষ্টি যেন নতুন করে ধুয়ে দিলো পুরোনো দৃশ্যপট। যেখানে একসময় ছিল এলোমেলো আর ধুলাবালি। সেই জায়গাতেই এখন সারি সারি ফুল গাছ। শেষ বিকেলের আলো আর বৃষ্টির ছোঁয়ায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে তৈরি হলো এক অন্যরকম নান্দনিক দৃশ্য।
এই দৃশ্য চোখ এড়িয়ে যায়নি উপস্থিত কারোই। প্রতিবেদক সেই মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে আশপাশের অনেক মানুষ থেমে যান, কেউ তাকিয়ে থাকেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলতে শুরু করেন।
যেভাবে পরিবর্তন
এই স্থানটি একসময় ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারার। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সারি সারি অবৈধ গাড়ি পার্কিং করা থাকতো। পাশাপাশি ছিল চা-সিগারেটের অস্থায়ী দোকান, ছড়ানো আবর্জনা আর বিশৃঙ্খলা।
কিন্তু এখন সেই দৃশ্য অতীত। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্ছেদ করা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। খালি হওয়া জায়গাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ। ফলে পুরো এলাকাটিই পেয়েছে এক নতুন পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক রূপ।
জেলা প্রশাসনে জরুরি কাজে এসে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক শাহ আলম তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এই কার্যালয়ে আগে অনেকবার আসতে হয়েছে। তখন এখানে ছিল শুধু আবর্জনা আর গাড়ির সারি। এখন সেখানে ফুলের বাগান দেখে সত্যিই ভালো লাগে। মনে হয়, আবর্জনা থেকে সৌন্দর্যে বদলে যাওয়াটা শুধু জায়গার না, মানসিকতারও পরিবর্তন।
আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুব বলেন, একটি ছোট উদ্যোগ কীভাবে একটি জায়গার চেহারা বদলে দিতে পারে, তারই জীবন্ত উদাহরণ যেন এই প্রাঙ্গণ। বৃষ্টিভেজা বিকেলে ফুলের গন্ধ আর মানুষের মুগ্ধতা মিলিয়ে জায়গাটি এখন একটি সৌন্দর্যের প্রতীক।
এমডিএএ/এমআরএম