ইউনূস সরকারের নবীন সদস্যদের দুর্নীতির অভিযোগ শামার, প্রমাণ চান নাহিদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৪ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
সংসদে বক্তব্য রাখছেন শামা ওবায়েদ ও নাহিদ ইসলাম/ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নবীন সদস্যদের (উপদেষ্টা) বিরুদ্ধে সংসদে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নবীন সদস্যদের বিরুদ্ধে গত দেড় বছরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এমন অভিযোগের জবাবে সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি সেই সরকারের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের) উপদেষ্টা ছিলাম। আমি কোথায় দুর্নীতি করেছি তার প্রমাণ দিতে হবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, যদি রাষ্ট্রপতি বা তার ভাষণ অবৈধ হয়, তবে তৎকালীন (অন্তর্বর্তীকালীন) সরকারও অবৈধ কি না তা ভেবে দেখতে হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা যখন নতুন বাংলাদেশ ও নতুন প্রজন্মের কথা বলি, তখন শুধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভাইরাল হওয়ার রাজনীতি আশা করি না। দেশের জন্য কাজ করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি সরকারে থেকে কাজ করতে হয় তাহলে এক্সপেরিয়েন্স যেমন দরকার সাহস সেরকম দরকার, বুদ্ধিমত্তাও দরকার। কারণ, বিএনপি এমন রাজনৈতিক দল যে ফেসবুকে রাজনীতি করে না; রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে খেটে রাজনীতি করে।

‘শুধু বট বাহিনী দিয়ে, স্ট্যাটাস দিয়ে মানুষকে ছোট করে, আজেবাজে কথা বলে ভাইরাল হয়ে রাজনীতি হয় না। যদি ১৯৭১ সালে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া থাকতো, তাহলে দেশ স্বাধীন হতো কি না আমরা জানি না।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ সবকিছুর ঊর্ধ্বে। (এনসিপির দুই সংসদ সদস্যের প্রতি ইঙ্গিত করে) আমি আমার সামনে বসা সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আব্দুল্লাহদের সেন্টিমেন্ট রিলেট করি; আমরাও চাই আমাদের সন্তানরা এমন এক নতুন বাংলাদেশে বসবাস করুক, যেখানে আইনের শাসন থাকবে, খুনের বিচার হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। আমরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি না করে ঐক্যবদ্ধ থাকি, তবে এই পার্লামেন্ট থেকেই গুণগত উন্নয়নের সূচনা হবে।

শামা ওবায়েদের বক্তব্যের পর ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। আমি সেই সরকারের উপদেষ্টা ছিলাম, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অ্যাটর্নি জেনারেলও (বর্তমান আইনমন্ত্রী) ছিলেন। আমি নির্বাচনের অনেক আগেই পদত্যাগ করেছি।

নাহিদ বলেন, যেহেতু জাতীয় সংসদে দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে, তাই ওনাদের প্রমাণ দিতে হবে যে নাহিদ ইসলাম কোথায় দুর্নীতি করেছে।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে কারও নাম বলেননি। 

এমওএস/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।