সমুদ্রপথে বিদেশযাত্রা বন্ধ করতেই হবে: প্রতিমন্ত্রী নুর
বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টাকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে এ প্রবণতা বন্ধের জন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি বলেছেন, সাগরপথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে। যারা তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনে সমুদ্রপথে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকার একটি হোটেলে ‘ফ্রম রিটার্ন টু রাইজ: স্টোরিজ অব রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ব্র্যাকের সহ-অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্র্যান্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের দেশব্যাপী অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিদেশফেরতরা তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের সহায়তায় বিদেশফেরত মানুষদের ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাগুলো অনুপ্রেরণামূলক। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা সামনের দিনগুলোতে বিদেশফেরতদের কল্যাণে টেকসই সব উদ্যোগ নিতে চাই। কারণ এই প্রবাসীদের ঘামের টাকায় দেশের অর্থনীতি চলে। কাজেই তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় ও আত্মসাৎ হয়ে যায়, অথচ অভিবাসীদের ঘামঝরা পরিশ্রমে অর্জিত অর্থই আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। সেই মানুষের পুনরেকত্রীকরণ ও পুনর্বাসনের জন্য এতদিন কেন যথেষ্ট চাপ তৈরি হয়নি সেটিও আমাদের ভাবতে হবে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।
সরকার অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ক্ষেত্রেও আরও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতিগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে বায়রার সদস্যপদেও শুধু সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে মানভিত্তিক গ্রেডিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের কল্যাণে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সবার একসঙ্গে কাজ করা জরুরি কারণ সমস্যাগুলো বহুমাত্রিক। সরকার এক্ষেত্রে ব্র্যাকের অভিজ্ঞতাগুলো নিতে পারে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের পরিচালক সাফি রহমান খান। এ ছাড়াও দুজন বিদেশফেরত অভিবাসী সেলিনা বেগম এবং সোহেল রানা তাদের পুনরেকত্রীকরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে দেশি বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী বলেন, অভিবাসীরা আমাদের গর্ব। তবে ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তা আছে বলে অভিবাসনের পথ খুব মসৃণ নয়। এক্ষেত্রে মানুষকে দক্ষ করে বিদেশে পাঠানোটা চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে চাহিদা বিশ্লেষণ করে দক্ষ লোক পাঠাতে হবে। যারা ফেরত আসেন তাদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইইউ কাউন্সেলর ইউরাতে স্মালস্কাইটে মেরভিল তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে নতুন উপায় ও নতুন সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। বৈধ পথে বিদেশ যাওয়াকে উৎসাহিত করতে হবে। এ জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক লোকমান হোসেনসহ দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিরা।
আরএএস/এমকেআর