টার্গেট কিলিং ঠেকাতে রাউজানে অভিযান চালানোর ঘোষণা এসপি মাসুদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২০ পিএম, ১৭ মে ২০২৬
চট্টগ্রামের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, ছবি: সংগৃহীত

রাউজানে সন্ত্রাস ও টার্গেট কিলিং ঠেকাতে সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে বড় ধরনের অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রামের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করবে পুলিশ। কোনো সন্ত্রাসী কিংবা সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

রোববার (১৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় প্রায়ই রাউজানের নাম উঠে আসে। আবার রাউজানের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলে পাহাড়ি এলাকা থেকে অপরাধীরা আসে বলেও তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে জেলা পুলিশ।

তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রাউজানে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সে সময় এলাকাটি কিছুটা অস্থির হয়ে উঠেছিল। পুলিশের কাছে এমন তথ্যও রয়েছে যে নগরে সংঘটিত কিছু অপরাধের পেছনে রাউজানকেন্দ্রিক গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া কোনো অভিযান পরিচালনা করতে চায় না পুলিশ বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন
বাবলু-নাছিরের পর রাজু হত্যাকাণ্ড, খুনের বদলা নাকি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব? 

মাসুদ আলম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি রাউজানের স্থানীয় বাস্তবতা, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও পাহাড়-জঙ্গলঘেরা এলাকাগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সঠিক তথ্য ও পরিকল্পনা ছাড়া অভিযানে গেলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। খুব শিগগির সেখানে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। কোনো সন্ত্রাসী কিংবা সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, বলেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা দলীয় প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন মাসুদ আলম। তার ভাষ্য, পেশাদারত্বের সঙ্গে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই মতবিনিময় সভায় জঙ্গল সলিমপুর নিয়েও কথা বলেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, একসময় ‘রাষ্ট্রের ভিতরে রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি জানান, সেখানে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় দুটি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এমআরএএইচ/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।