দুই বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ হাজার ২৩৫ জন


প্রকাশিত: ১২:০৫ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০১৭
ফাইল ছবি

গত দুই বছরে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৬৬ নারী ও শিশুসহ মোট ১০ হাজার ২৩৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময়ে সংঘটিত ৭ হাজার ৫৯০টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও ২২ হাজার ৫৯৮ জন। তবে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

সোমবার বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
 
শীর্ষস্থানীয় ২০টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র , আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ওপর জরিপ ও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে বলে জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৯৯৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৪১২ নিহত ও ৮ হাজার ৫৭২ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪৭০ নারী ও ৪৫৩ শিশু রয়েছে। এর পূর্ববর্তী ২০১৫ সালে একই সময়ে ৭৮১ নারী ও ৭৬২ শিশুর প্রাণহানি ঘটে। ওই বছর ৪ হাজার ৫৯২টি দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৮২৩ জন নিহত ও ১৪ হাজার ২৬ জন আহত হন।
 
পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১ হাজার ৫৯৪টি কমেছে। নিহত ও আহতের সংখ্যা কমেছে যথাক্রমে ৩ হাজার ৪১১ ও ৫ হজার ৪৫৪। অর্থাৎ ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনার হার ৩৫ শতাংশ, নিহতের হার ৫০ শতাংশ ও আহতের হার ৩৯ শতাংশ কমেছে।

জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো-
১. সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বছরজুড়ে গঠনমূলক সংবাদ প্রচার
২. দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে সামাজিক সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন
৩. বছরের অধিকাংশ কর্ম দিবসে রাজপথে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর পদচারণা
৪. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও জাল ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা ও পুলিশের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি এবং
৫. ঝুঁকিপূর্ণ অনেক বাঁক চিহ্নিত করে সতর্কীকরণ সংকেত স্থাপন ও সড়ক সংস্কার।  

অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রধান সাতটি কারণ চিহ্নিত করেছে জাতীয় কমিটি। এগুলো হচ্ছে-
১. বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো
২. অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ
৩. নিয়ম ভঙ্গ করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং করার প্রবণতা
৪. চালকদের দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো
৫. ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা
৬. ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং
৭. ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও বেহাল সড়ক।

এইচএস/আরএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :