অন্তঃসত্ত্বা মা ও শিশুরা নগদ সহায়তা পাবেন


প্রকাশিত: ১২:০২ পিএম, ২৩ মার্চ ২০১৫

দেশে অন্তঃসত্ত্বা মা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আর্থিক প্রণোদনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে সাতটি জেলায় এই কর্মসূচি শুরু হবে আগামী এপ্রিল মাসে। এলক্ষ্যে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

সরকার এবং বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে দুই হাজার ৩৭৭ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ের ‘ইনকাম সাপোর্ট ফর দ্য পুওরেস্ট’ শীর্ষক এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এর্ মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক দেবে দুই হাজার ৩৪০ কোটি টাকা।

প্রকল্পে উপকারভোগী জনগোষ্ঠী হচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা মা এবং শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী সন্তানের মায়েরা। উত্তরের গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নিলফামারী, লালমনিরহাট, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর জেলার ৪২টি উপজেলার ৪৪৩টি ইউনিয়নের প্রায় ছয় লক্ষ মা এই নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আসবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে এ বছরের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। বাংলাদেশ দরিদ্র ডাটাবেজ থেকে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মালেক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের এমইই শাখার মহাপরিচালক জুয়েনা আজিম সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের গর্ভকালীন চারবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রেক্ষিতে প্রতিবার ২০০ টাকা, শূন্য থেকে চব্বিশ মাস বয়সী শিশুদের প্রতি মাসে বৃদ্ধি পরীক্ষার প্রেক্ষিতে প্রতিবার ৫০০ টাকা, ২৫/৬০ মাস বয়সী শিশুদের প্রতি তিন মাস অন্তর বৃদ্ধি পরীক্ষার প্রেক্ষিতে প্রতিবার ১০০০ টাকা, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও মায়েদের জন্য প্রতিমাসে শিশু পুষ্টি ও উন্নত শিক্ষা সংক্রান্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ সাপেক্ষে প্রতিবার ৫০০ টাকা হারে অর্থ প্রদান করা হবে।

উপকারভোগীদের একটি করে পোস্টাল ক্যাশ কার্ড দেওয়া হবে যা ব্যবহার করে নিকটবর্তী ডাকঘর থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। এ জন্য ডাকঘর অধিদফতরের সাথে পরবর্তীতে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক আগ্রহে আজ তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। গ্রামের ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সহজে যে সেবা পাচ্ছে তা প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভাবনী চিন্তার ফল। যেখানে ৩০ প্রকারের ঔষধ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এই ক্লিনিকগুলোতে এখন সফলভাবে সাধারণ প্রসবও সম্পন্ন হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রসূতি মায়ের যথাযথ স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি শিশুদের সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবার প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়াতে মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জন আরও উপরে উঠবে।

এসএ/বিএ/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।