মানবপাচার চক্রের কারণে রেমিটেন্স হারাচ্ছে সরকার


প্রকাশিত: ১০:৫৮ এএম, ৩১ মার্চ ২০১৫
থাইল্যান্ডে গত বছরের অক্টোবর মাসে ১৩০ জন বাংলাদেশি `দাস শ্রমিক` উদ্ধার করা হয়

দালাল চক্রের খপ্পরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ আফ্রিকা যাওয়ার লোভের ফাঁদে পড়ে বৈধ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা ও চাকুরিজীবীরা একদিকে যেমন অবৈধ হয়ে যাচ্ছে, তেমনি সরকারও বৈধ রেমিট্যান্স হারাচ্ছে। অপরদিকে ভুক্তভোগীর পরিবারও হয়রানির শিকার হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসব কথা বলেন সিআইডি’র বিশেষ সুপার (ময়মনসিংহ বিভাগ) মতিউর রহমান।

গত সোমবার রাতে শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর এলাকা থেকে বাংলাদেশি মানব পাচার চক্রের মূলহোতা নান্নু মিয়া ওরফে নুনু মিয়াকে (৫০) গ্রেফতার করে সিআইডি পুলিশ।

বিশেষ সুপার (ময়মনসিংহ বিভাগ) মতিউর রহমান বলেন, অসংখ্য বাংলাদেশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। সেখানে বৈধ শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে ভুলভাল বুঝিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকুরি দেয়ার কথা বলে ফাঁদে ফেলতো নান্নু মিয়া।

এরপর বিভিন্ন খাত দেখিয়ে টাকা আদায় করতো। এছাড়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে তুকী, পাকিস্তানি, দালালচক্রের সহযোগীতায় অবৈধভাবে স্পীডবোটে ওমান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের বন্দর আব্বাসে নিয়ে আসতো এবং সেখানে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের জন্য নির্যাতন চালাতো।

এরপর বিদেশ থেকে দেশে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোনে টাকা দাবি করতো। টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতন চালাতো বলেও জানান তিনি।

অনেক সময় অন্য দেশ বিশেষ করে আফ্রিকা কিংবা পাকিস্তানের সীমান্তে নিয়ে ছেড়ে দিতো। এসব ঘটনায় নির্যাতনে অনেক বাংলাদেশির মৃত্যুও ঘটেছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশি মানব পাচার চক্রের মূলহোতা নান্নু মিয়া ওরফে নুনু মিয়া সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, গত ২০১২ সালে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত জনৈক প্রকৌশলী শফিউল আলমকে জিম্মি করে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে নান্নু মিয়া।

এ ঘটনায় শফিউলের মা সিআইডি’র কাছে অভিযোগ করলে তদন্ত শুরু হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর ভাসানটেক থানায় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করা হয়। পরবর্তিতে যশোর ভিত্তিক ‘রাইটস যশোর’ নামে একটি মানবাধিকার সংগঠনের সহায়তায় সার্বিক খোঁজ খবর নিয়ে মুক্তিপণ আদায়কারীচক্রকে সনাক্ত করে সিআইডি।

বাংলাদেশ দূতাবাস ও ‘রাইটস যশোর’ ইরান দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে নান্নু মিয়াকে আটক করে ইরান পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় নান্নু মিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং গত রাতে নান্নুকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, সিআইডি’র একটি তদন্ত দল সরাসরি ইরানে গিয়ে ইরান পুলিশের উধ্বতন পুলিশের সাথে কথা বলে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মানবপাচারচক্রের হাতে আটকের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে। সিআইডি ইরান পুলিশের কাছে ২০১৩/১৪ সালের ১৪টি বিভিন্ন মামলায় মানব পাচার চক্রের ১৬০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দাখিল করে।

তিনি আরো বলেন, দালালচক্রের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ আফ্রিকা যাওয়ার লোভের ফাঁদে পড়ে বৈধ বাংলাদেশি প্রবাসীরা যেমন অবৈধ হয়ে যাচ্ছে, তেমনি সরকারও বৈধ রেমিট্যান্স হারাচ্ছে।

এই বিষয়ে সিআইডি দুবাই, গ্রিস, তুরস্ক পুলিশের উধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে বৈঠক করে। প্রলোভনে পরে যাতে কোনো বাংলাদেশি কর্মস্থল ছেড়ে যেন অন্য কোথাও না যায় সেজন্য পরামর্শ দেয় সিআইডি।

সিআইডি পুলিশের বিশেষ সুপার মতিউর রহমান বলেন, মানব পাচার চক্রের শতাধিক ঘটনার মূল হোতা নান্নু মিয়া। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দেশে ও বিদেশে তার দেশি ও বিদেশি সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত দুবছরে সিআইডি শতাধিক মানব পাচারচক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়েছে। মানব পাচারের ঘটনায় বেশ কিছু মামলার চার্জশীটও হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশি সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো রিক্যুইজিশন এজেন্সি জড়িত থাকার কথা জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, এ বিষয়টি বিষদভাবে না বললে বোঝানোর সুযোগ নেই। আমি এখন মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়ে পরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

# বাংলাদেশিদের অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা আটক 

জেইউ/আরএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।