ইসিতে অপরাধী প্রার্থীদের তালিকা দিচ্ছে ডিবি
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন নেয়া প্রাথীদের মধ্যে সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের তালিকা তৈরি করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই তালিকা মঙ্গলবার রাতেই ইসি’র কাছে পৌছে দেয়া হবে।
মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে ইসির আইনানুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের মামলা মূলতবি রয়েছে কিনা তা আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। আজকের (মঙ্গলবার) রাতের মধ্যে এ সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হবে।
আগামীকাল (বুধবার) থেকে প্রার্থীতা যাচাই বাচাই করা হবে। সে সময়ও ডিএমপি’র একাধিক প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তাদের কাছে বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে করা মামলা মোকাদ্দমার হিসেব থাকবে। প্রার্থীরা যে সমস্ত ডকুমেন্ট সেখানে উত্থাপন করবেন তা তদারকি করবেন ডিএমপি’র প্রতিনিধিরা।
মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, যেহেতু জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আওতায় এই নির্বাচন ন্যস্ত হয়েছে, সেহেতু নির্বাচন কমিশনের চাহিত যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করার যে প্রক্রিয়া তা শুরু করেছি। ইসি যে ধরণের সহযোগীতা চায় তা ডিএমপি’র পক্ষ থেকে করা হবে। আর আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হবে।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে ভয়হীন সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য যারা অস্ত্রধারী রয়েছে, চাঁদাবাজ রয়েছে, সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাস করার পূর্বে অভিযোগ ও মামলা রয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আর যারা বিভিন্ন মামলায় জামিনে রয়েছেন তাদের আমরা পর্যবেক্ষণে রাখবো। যাতে করে তারা কোনো ধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অস্ত্র কিংবা অন্য কোনো পেশী শক্তি চালিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে না পারেন। আর যারা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কত জনের তালিকা পাঠানো হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি বলা মুশকিল। তবে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে যারা মনোনয়ন নিয়েছেন তাদের অনেকের বিরুদ্ধে ৩০ থেকে ৪০টি মামলা রয়েছে। ঢাকা ও নিজ জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সে বিষয় গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অনেকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, জেল থেকে বা আত্মগোপনে থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছে নির্বাচন করার জন্য তাদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ ডিএমপি নেবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফৌজদারি অপরাধে যারা অভিযুক্ত ও পলাতক রয়েছে, কিংবা যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে তাদের গ্রেফতারের যে প্রচেষ্টা তা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কেউ যদি গুপ্তস্থান বা আত্মগোপনে থেকে অথবা জেল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সেক্ষেত্রে যদি নির্বাচন কমিশনের কোনো বিধিনিষেধ না থাকে তবে পুলিশের সিদ্ধান্ত দেয়ার কিছু নেই। তবে ফৌজদারি অপরাধে অপরাধী হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেইউ/আরএস/পিআর