মালয়েশিয়ায় চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে আটক ৩


প্রকাশিত: ১১:০২ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
মালয়েশিয়ায় চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে আটক ৩

ফেসবুকে ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা করার অভিযোগে রাজধানীর রামপুরা এলাকা থেকে ৩ জনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

এসময় তাদের কাছ থেকে জাল ভিসা ও ভুয়া বিজ্ঞাপনের কাজে ব্যবহৃত ১টি কম্পিউটার, গ্রাম বাংলা কর্পোরেশনের রেফারেন্স স্টীকার-৪৮৮টি, বিভিন্ন সিল ৬টি, ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, একটি ট্রেড লাইসেন্স, নগদ-২৮ হাজার ৪শ, ৬৪টাকা, ৩টি চেক বই ও গ্রাম বাংলা কর্পোরেশনের মানি রিসিভ বই উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, আসাদুজ্জামান ওরফে রানা(৩৩), শাহীন রেজা (৩১) ও জিএম মোসলেহ উদ্দিন ওরফে মুন্না(৪৩)।

র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং এর পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, রাজধানীর রামপুরা এলাকার আসাদুজ্জামান ওরফে রানা ও শাহিন রেজা (৩১) নামে দুই ব্যক্তি ‘গ্রাম বাংলা ট্রাভেলস’ পেইজ নাম দিয়ে ফেসবুকে “মালদ্বীপে হোটেলে চাকুরীর ভিসা” নামে একটি আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে এবং তা ফেসবুকে শেয়ার করতে থাকে।

বিজ্ঞাপনটিতে হোটেল বয় হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা বেতনে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে মালদ্বীপে প্রেরণ করা হবে এবং ভিসা সংক্রান্ত সকল খরচ ভিসা পাওয়ার পর প্রদান করতে হবে বলে জানানো হয়।

তার এই বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বল্প আয়ের লোকজন তার সাথে যোগাযোগ করে এবং পরবর্তীতে প্রতারণার মাধ্যমে জাল ভিসা প্রদান করে তাদের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতারণার শিকার হয়ে র‌্যাব-৩ এর কাছে অভিযোগ করেন রাজধানীর পল্লবী এলাকার হাসান (১৯) নামে এক ব্যক্তি।

তিনি অভিযোগে বলেন, ‘গ্রাম বাংলা ট্রাভেলস’ এর বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে মালদ্বীপ যাওয়ার জন্য আসাদুজ্জামান ও শাহিনকে তিন দফায় ৩ লাখ টাকা প্রদান করেন। তারা হাসানকে মালদ্বীপের একটি জাল ভিসা ও শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান টিকেট প্রদান করেন। পুরো ব্যাপারটিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের অস্থায়ী কর্মচারী জিএম মোসলেহ উদ্দিন এবং স্থানীয় দালাল সেলিম জামানের সহায়তায় জাল ভিসার বিপরীতে একটি স্মার্ট কার্ড (বিএমইটি কার্ড) প্রদান করেন।

গত ২০ জানুয়ারি হাসান তার বিদেশ যাত্রার দিন জানতে পারেন যে, তাকে দেয়া বিমান টিকিটি ভুয়া। হাসানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৩ তাদের গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।

জেইউ/এআরএস