রাষ্ট্র তুমি এবার সংযত হও : ড. মিজান
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘বর্তমানে আমাদের সমাজে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। মানবাবিধকার লঙ্ঘনের এই অবস্থাকে আর মেনে নেয়া যায় না। যথেষ্ট হয়েছে আর নয়, রাষ্ট্র তুমি এবার সংযত হও। তোমাকে সংযত হতেই হবে। কেননা এ রাষ্ট্র আমার, আমাদের সবার।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘যৌনকর্মীর জীবন ও জীবিকার অধিকার বিষয়ক গণশুনানি’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সেক্সওয়ার্কারস নেটওয়ার্ক, সংহতি এবং সোয়াসা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘সংবিধানে যা কিছু লিপিবদ্ধ আছে দেশ তার উল্টো পথে চলছে। এটা কখনোই মেনে নেয়া যায় না। মানবাধিকার কর্মীরা এটা মেনে নেবে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, পতিতাবৃত্তি নিরসনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু ৪৪ বছর ধরে রাষ্ট্র তাদের জন্য কি করেছে? যদি তুমি পতিতাবৃত্তি সমর্থন না করো তাহলে তাদের কর্মের ব্যবস্থা কর।’
এছাড়া সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের সমান অধিকার রয়েছে। অথচ আমরা কি দেখছি, যৌনকর্মীদের মামলা নেয়া হয় না। দিনের পর দিন তারা মামলার জন্য যাচ্ছেন। উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা করে আটকিয়ে রাখা হচ্ছে।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘৪২ নম্বর অনুচ্ছেদে সম্পত্তির অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এখানে প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তির অধিকারের কথা বলা হয়েছে। অথচ যৌনকর্মীদের সম্পত্তি হুমকি দিয়ে, জোর করে লুট করা হচ্ছে। আর রাষ্ট্র তাকিয়ে তাকিয়ে সেই তামাশা দেখছে। যৌনকর্মীদের সন্তান কখনোই অবৈধ নয়। এই দোষ তো যৌনকর্মীদের নয়। একটা শিশু কখনোই অবৈধ হতে পারে না। অবৈধ শব্দটি এনেছে এমন সমাজ যে সমাজ নিজেই কলুষিত।’
তিনি আরো বলেন, যে সকল যৌনকর্মী শেষ পর্যন্ত এই পেশা বেছে নিয়েছেন তার পিছনে অত্যন্ত দুঃখ, কষ্ট ও বেদনার ঘটনা রয়েছে। এই পেশা বেছে নেয়ার পেছনে যদি কোনো ব্যর্থতা থেকে থাকে তাহলে সেটা যৌন কর্মীদের নয়, সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকারের।
এসময় সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ব্ল্যাস্ট-এর কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী, মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির, নারীপক্ষের সদস্য ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফেরদৌস আজিম। অনুষ্ঠানে ইকোনোমিক ব্যাখ্যা করেন অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন খান আফরিন।
এমএইচ/একে/আরআই