কর্মমুখী শিক্ষার উন্নয়নে কসোভোর সহযোগিতা চাইলেন মেয়র শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ০৭ মে ২০২৬
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা/ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের নার্সিং ও কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণে কসোভো প্রজাতন্ত্রের সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) নগরের টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এই আহ্বান জানান চসিক মেয়র।

বৈঠকে মেয়র বলেন, লন্ডন ও কানাডার মন্ট্রিলে ভ্রমণের সময় তিনি দক্ষ নার্সদের ব্যাপক চাহিদা দেখেছেন। এ কারণে চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের নার্সিং শিক্ষার অবকাঠামো গড়ে তুলে দক্ষ নার্স তৈরি করতে চান। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার মানও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে প্রশিক্ষিত নার্সের সংকটও দূর করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কসোভোর সহযোগিতা পাওয়া গেলে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জবাবে রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা বাংলাদেশে টেলিমেডিসিন খাত সম্প্রসারণে বিশ্বখ্যাত টেলিমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রিফাত লতিফির সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ডা. রিফাত লতিফি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও চরাঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। টেলিমেডিসিন প্রযুক্তির মাধ্যমে কম খরচে প্রান্তিক মানুষের কাছে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

বৈঠকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নদী দূষণ রোধেও কসোভোর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কসোভোতে নদী রক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীগুলো দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। চট্টগ্রামের খাল-নদী রক্ষায়ও কঠোর আইন প্রয়োগের পরামর্শ দেন তিনি।

কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, কসোভোতে কেন্দ্রীয়ভাবে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে দেশটির কারিগরি শিক্ষা সনদ নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজের সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশও চাইলে এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার, চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নগর ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান ও আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ উপস্থিত ছিলেন।

এমআরএএইচ/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।