সিটিং বাসের চিটিংবাজি বন্ধে যাত্রী কল্যাণ সমিতির স্মারকলিপি


প্রকাশিত: ১১:২৫ এএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৭

রাজধানীতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে সিটিং বাসের চিটিংবাজি বন্ধের দাবি জানিয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। রোববার সকালে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মরকলিপি দেয়া হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার সময় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘নিয়ম হলো ৮০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে বাস ছাড়তে হবে। সে অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করায় প্রত্যেক যাত্রীর সিটিং গাড়িতে যাতায়াতের অধিকার সংরক্ষিত আছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএর আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রাফিউল ইসলাম, যাত্রী কল্যাণ সমিতির অর্থ সম্পাদক এম মনিরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা মহিউদ্দিন আহম্মেদ, সামসুদ্দীন চৌধুরী, তৌহিদুল ইসলাম, জিয়াউল হক চৌধুরী প্রমুখ।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, নগরীর যাত্রীসাধারণের জন্য বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে যথাক্রমে ১ টাকা ৭০ পয়সা ও ১ টাকা ৬০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ৩ কিলোমিটারে ৭ টাকা ও ৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

এসব বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে কোম্পানির নির্ধারিত ভাড়া আদায় করা হয়। একই দূরত্বে একেক বাসে একেক রকম ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে। যেমন প্রেসক্লাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার দূরত্বে সরকার নির্ধারিত মিনিবাসের ভাড়া ৫ টাকা ও বাসের ভাড়া ৭ টাকা।

এই পথে হিমাচল পরিবহন, স্বাধীন এক্সপ্রেস, দিশারী পরিবহন, সময় নিয়ন্ত্রণ, শিকড় পরিবহনের বাস-মিনিবাসে আদায় করা হয় ২৫ টাকা। মঞ্জিল, শতাব্দী, আল মক্কা, মালঞ্চ, বসুমতি ও রাইদা পরিবহনের বাস-মিনিবাসে এই পথে ভাড়া ২০ টাকা, শুভেচ্ছা, ওয়েলকাম, তানজিল, গুলিস্তান-গাজীপুর পরিবহন লিমিটেড, মেশকাত পরিবহনের বাস-মিনিবাসে এই পথের ভাড়া ১০ টাকা।

শুধুমাত্র ৭ নং রুটের মিনিবাস ও ৮ নং রুটের মিনিবাসে এই পথে ৫ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। এই চিত্র নগরজুড়ে বিরাজমান বলে দাবি করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, কথিত সিটিং সার্ভিসের গাড়িগুলো বাড়তি ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি প্রতি ৩১ আসনের মিনিবাসে ৪১ আসন, ৩৬ আসনের বাসে ৪৬ আসন, ৩৯ আসনের বাসে ৫২ থেকে ৬১ আসন সংযোজন করায় যাত্রীসাধারণ এসব বাসে আরামদায়কভাবে বসতে পারেন না।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কথিত সিটিং সার্ভিসের বাস-মিনিবাসের ৯০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ লক্কর-ঝক্কর, ভাঙা সিট, ভাঙা সাইড বা পেছনের গ্লাস অপরিষ্কার, ধুলা-ময়লায় পরিপূর্ণ ও সিটের বেহাল দশা।

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা ঝুলানোর নির্দেশনা ৯২ শতাংশ বাস-মিনিবাসে মানা হয় না দাবি করে সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা সাধারণ যাত্রীরা স্পষ্ট বুঝতে পারে না। অধিকাংশ সিটিং সার্ভিসের ভাড়ার আদলে স্টপেজ কমিয়ে ভাড়ার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যেমন- ফার্মগেট থেকে যেকোনো বাসে আগারগাঁও যেতে মিরপুর-১০ পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হয়। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ একটি বাস স্টপেজকে ভাড়ার তালিকা প্রণয়নে উপেক্ষা করা হয়েছে।

উল্লিখিত অনিয়ম ও বৈষম্যসমূহের অবসান ঘটিয়ে ভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়া অনুযায়ী, নিবন্ধন-রুট পারমিটের শর্ত অনুযায়ী নগরীর যাত্রী সাধারণের যাতায়াত সুনিশ্চিত করার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়।

এমইউ/জেডএ/ওআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :