পরোয়ানা পেলেই খালেদার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : মনিরুল ইসলাম


প্রকাশিত: ১১:০২ এএম, ০৭ মে ২০১৫

রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করে মানুষ হত্যা ও আহতের ঘটনার সব তথ্য-উপাত্ত আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত চার্জশিটের ভিত্তিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়াসহ পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে এ কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

অবরোধ এবং হরতাল চলাকালে গত ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ির মাতুয়াইলে কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই ঘটনায় পুলিশের একটি টহল দল এবং স্থানীয়রা নিক্ষেপকারীদের ধাওয়া করে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় কিছু মানুষ আহত হন।

এর মধ্যে কেউ কেউ প্রথমিক চিকিৎসা নেন আবার কেউ কেউ দীর্ঘদিন হাসপাতালে মারাত্মক ইনজুরি নিয়ে ভর্তি ছিলেন এতে হতাহতের সংখ্যা ছিল অন্তত ১৮ জন। এর মধ্যে নুরে আলম নামের এক যাত্রী মারাও যান। এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা রুজু হয়।

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মূলত ২০ দলীয় নেতা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে এজহারে নাম উল্লেখ করা হয়। তার ঘোষিত কর্মসূচির কারণেই মূলত ঘটনাটি তার দলের নেতাকর্মীরা সংগঠিত করে।

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ওই ঘটনায় যাত্রাবাড়ি থানায় দায়েরকৃত মামলার (৫৮ নম্বর) তদন্ত শেষে বুধবার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিটে ৩৯ জনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এদের মধ্যে এক আসামি ইতোপূর্বে মারা গেছেন। বাকি ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তবে মামলায় এজহার নামীয় আসামির সংখ্যা ছিল অনেক। এ ঘটনায় মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।

সাত জনের জবানবন্দি বিশেষ করে আদালতে চার জনের স্বীকারোক্তিমূলক ভিত্তিতে জবানবন্দির প্রেক্ষিতে, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং যারা জখম হয়েছিলেন তাদের সাক্ষ্য অনুযায়ী সবকিছুর ভিত্তিতে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়, একজন মারা যাওয়ায় ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

এর মধ্যে ৩১ জন এখন পর্যন্ত পলাতক রয়েছে। ৩১ জনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যুর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে ২০ দলীয় জোট নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আসামি রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন পেশারও কিছু লোক রয়েছেন।

পুলিশের তদন্তে ঘটনাস্থলে পাঁচ জনের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেই পাঁচ জনের মধ্যে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরমধ্য একজন পুলিশের ওপর হামলা করার কারণে, পুলিশের পাল্টা প্রতিরোধে ঘটনাস্থালেই নিহত হন।

এ কাজে যারা অর্থ দিয়েছেন তাদেরকেও অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। বাকি একটি মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে দাখিলের জন্য। বেগম খালেদা জিয়াকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাকে আসামি করা হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়া ও পলাতক অন্যান্যদের গ্রেফতারের ব্যাপারে জানাতে চাওয়া হলে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, পলাতক আসামাদের গ্রেফতারের ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। আদালতের পরোয়ানা গ্রেফতার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জেইউ/বিএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।