প্রধানমন্ত্রী

ভবিষ্যৎ আপনাদের, দেশ গড়ার নেতৃত্বও আপনাদের নিতে হবে

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী/ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বর্তমান তরুণ প্রজন্মের হাতে। অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি যতটা বলতে চাই, তার চেয়ে বেশি আমি শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে চাই। ভবিষ্যৎ আপনাদের; দেশকে এগিয়ে নিতে আপনাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

মতবিনিময়কালে শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও হলের রিডিং রুমে আসন সংকট, সরকারি চাকরিতে অনিয়ম, গবেষণায় সীমাবদ্ধতা, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, ভাষাশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিল্পের বিকাশসহ নানান বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অপচয় ও অনিয়ম দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বড় বড় প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়ে। এ বাস্তবতায় রাষ্ট্রের সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক সচেতনতা ও মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, সেজন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ গবেষণা ও মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগে ঘাটতি। মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ এবং গবেষণা সংস্কৃতি জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে স্কুলপর্যায় থেকেই ভাষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক ডাটাবেজে প্রবেশাধিকার, ভাষাভিত্তিক বিষয়সমূহে সরকারি চাকরিতে কোড অন্তর্ভুক্তি, সৃজনশীল শিল্পের বিকাশ এবং জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন বিভাগ চালুর দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

এফএআর/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।