ওয়াজেদ মিয়ার আদর্শ নতুন প্রজন্মের পাথেয় হবে : রাষ্ট্রপতি
বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার (সুধা মিয়া) ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, তিনি (সুধা মিয়া) তার মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা দিয়ে জনগণের কল্যাণে যে কাজ করে গেছেন জাতি তা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া তার কর্মের জন্য শুধু আমাদের কাছে নন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বেঁচে থাকবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম কৃতি সন্তান ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জের ফতেহপুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত মিয়া বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকে প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ড. ওয়াজেদ মিয়া আজীবন আণবিক গবেষণার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। কর্মজীবনে পরমাণুর ওপর গবেষণাসহ আণবিক শক্তি কমিশনে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।
ষাটের দশকে ড. ওয়াজেদ মিয়া ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও তিনি বঙ্গবন্ধু পরিবারের পাশে থেকে তাদের সাহস ও শক্তি যুগিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্য ও আপনজনেরা স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকদের হাতে শহীদ হওয়ার পর চরম বৈরী পরিবেশে ওয়াজেদ মিয়া বঙ্গবন্ধুর কন্যা তার স্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত প্রবাসে অবস্থান করে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন।
তিনি বলেন, ড. ওয়াজেদ মিয়া বাংলাদেশ আণবিক শক্তি বিজ্ঞানী সংঘের দু’বার সাধারণ সম্পাদক ও পাঁচবার সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশ পদার্থ বিজ্ঞানী সমিতি, বাংলাদেশ বিজ্ঞান উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশ বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আবদুল হামিদ বলেন, ‘দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ১৯৯৭ সালে ড. ওয়াজেদ মিয়ার পরামর্শ ও পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় সমন্বিত উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর এ ফাউন্ডেশনটি জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমি এ ফাউন্ডেশনের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি।’ মরহুম ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
একে/এমএস