সালাহউদ্দিনকে ফিরিয়ে আনা জটিল হবে : ড. এমাজউদ্দীন


প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ১৮ মে ২০১৫

সদ্য সমাপ্ত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’- এর ব্যানারে ২০ দলীয় জোটের পক্ষে কাজ করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ। সিটি নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান, সংগঠনটির নির্বাচন পরবর্তী পরিকল্পনা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিনসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপিপন্থী এই বুদ্ধিজীবী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জাগোনিউজ২৪.কমের নিজস্ব প্রতিবেদক মানিক মোহাম্মদ।

জাগো নিউজ পাঠকদের জন্য দুই পর্বের এই সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব থাকছে আজ :

জাগো নিউজ : বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ দুই মাস ‘নিখোঁজ’ থাকার পর ভারতের শিলংয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া রাজনৈতিক সমঝোতার ফলাফল না-কি বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিণতির কোনো ইঙ্গিত?

ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ : এটা রাজনৈতিক কোনো সমঝোতাও নয়, ভবিষ্যৎ পরিণতির ইঙ্গিতও নয়। তিনি কিভাবে সেখানে গেলেন এটা একটা রহস্য। তাই আমার পরামর্শ হবে- একটা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীকে (বিএসএফ) এড়িয়ে দেশের সাবেকমন্ত্রী যার বিএনপিতেও গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে, তিনি ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়া কেন এবং কিভাবে সেখানে গেলেন এটা আমার কাছে সন্দেহজনক। কে তাকে নিয়ে গেলো? এটা আমাদের পুলিশ কর্মকর্তা বা ভারতের পুলিশ কর্মকর্তার কাজ হবে হয়তো। কে বলেছেন তিনি আত্মোগোপনে গিয়েছেন? আত্মোগোপনে গেলে শিলং এ যাবেন কেন? এটা সন্দেহমুক্ত করার জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টা স্পষ্ট করা দরকার।

জাগো নিউজ : সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কী জটিল হবে?

ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ : জটিল তো বটেই। দেখুন নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় অভিযুক্ত নূর হোসেনকে কিন্তু এখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।



জাগো নিউজ : সালাহউদ্দিন আহমেদ নিখোঁজের ব্যাপারে প্রশাসনের বিশেষ বাহিনীকে অভিযুক্ত করে র্যাবের বিলুপ্তি চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন যে বক্তব্য দিয়েছেন তা কতটুকু যৌক্তিক?

ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ : শুধু তিনি কেন, হিউম্যান রাটইস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এ দাবি জানিয়েছে। ২০০৪ সালে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে যেই প্রতিষ্ঠানটির জন্ম হলো। এই প্রতিষ্ঠানটি কিছু টাকার জন্য নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। বিতর্কিত এই সংস্থাটিকে রাখা কতটুকু যৌক্তিক তা জাতি বিচার করুক। এখানে একা আমার বিবেচ্য বিষয় নয়।

জাগো নিউজ : এর আগে সেনাবাহিনীর হাতে দুইজন রাষ্ট্রপতিকে জীবন দিতে হয়েছে। কেউতো সেনা বিলুপ্তির দাবি করেননি। র‍্যাব এতদিনে একটা শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। এ বাহিনীর সংস্কারও করা যেতে পারে। তা না চেয়ে বিলুপ্তির দাবি কেন?

ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ : নিজের (খালেদা জিয়া) হাতের তৈরি ব্যাপারতো। এজন্যই হয়তো বিলুপ্তির দাবি করেছেন। মূলত দেশের চরম দুবৃর্ত্ত যারা তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই খালেদা জিয়া র্যাব তৈরি করেছিলেন। কিন্তু নিজের হাতে তৈরি জিনিসটা এভাবে মানুষ হত্যায় লিপ্ত হবে এ কারণে বলে থাকতে পারেন।

জাগো নিউজ : সীমান্ত চুক্তি সরকারের সফলতা বলে মন্তব্য করছে কূটনীতিকরা। প্রবীণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে আপনার মতামত কি?

ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ : এটা ১৯৭৪ সালের ব্যাপার, কিন্তু হয়েছে ২০১৫ সালে। ১৯৭৪ সালে না হয়ে ১৯৭৫ হলেও প্রশংসা করতাম। দুই সেরা নেতা এই চুক্তিটা করেছিলেন। কিন্তু এতদিন লাগলো কেন? সেখানে প্রশংসা করবো কিভাবে? তারপরও হয়েছে ভালো কথা। কিন্তু, এক অংশ (তিস্তার পানি চুক্তি) এখনো বাকি আছে, হোক। তখন একসঙ্গে বলবো, প্রশংসা করবো।

জাগো নিউজ : সম্প্রতি মানবপাচারের বিষয়টি খুবই আলোচিত। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?

ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ : হাজার হাজার মানুষ সমুদ্রে ভাসছে। এটা জাতির জন্য লজ্জাকর। সহজ পথটা তৈরি করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে, তাই তারা এই পথে গিয়েছে। এই লোকগুলো এখনো পানিতে ভাসছে। সোজা কথায় বলবো সরকার ব্যর্থ। অনেক দেশ রয়েছে সেখানে বহু লোক দরকার, কিন্তু সেসব খোঁজ নেয়ার কোনো লোক নেই।

এমএম/এসএইচএস/একে/আরএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।