১৮ হাজারে আড়াই কোটি টাকার স্বর্ণ বহন


প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ০৫ জুলাই ২০১৭

আড়াই কোটি টাকার স্বর্ণ আনার জন্য দালালের সঙ্গে মাত্র ১৮ হাজার টাকার চুক্তি হয় দুই নারীর। কিন্তু এর বিনিময়ে তারা যে স্বর্ণ বহন করবেন, এটা তাদের জানা ছিল না। শুধু টাকার জন্য নিরাপদে স্বর্ণগুলো বহন করেন তারা। তবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সন্দেহের ভিত্তিতে ৪০টি স্বর্ণবারসহ ওই দুই নারীকে আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

বুধবার সকালে মাস্কাট থেকে আসা রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চট্টগ্রাম হয়ে শাহজালালে আগমন করলে শুল্ক গোয়েন্দা দল তাদের আটক করে।

ওই দুই নারীর শরীর তল্লাশি করে ২০ পিস করে মোট ৪০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। এই স্বর্ণ তাদের শরীরে গোপন অংশে লুকায়িত ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মইনুল খান জানান, আটক দুই নারীর নাম নাসিমা ও জেসমিন। দুজনেরই বয়স ৩৫। নাসিমার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া ও জেসমিনের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়।

gold

তিনি বলেন, উভয়ে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে ডোমেস্টিক যাত্রী হিসেবে ঢাকায় আসেন। রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ফ্লাইট আরএক্স৭২৪ মাস্কাট থেকে চট্টগ্রামে ডমেস্টিক যাত্রী গ্রহণ করে। আন্তর্জাতিক যাত্রীসহ ডমেস্টিক যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে সকাল ১০টায়।

ঢাকায় ডমেস্টিক টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার সময় আগে থেকে শুল্ক গোয়েন্দারা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সতর্কাবস্থানে ছিলেন। তারা দুই নারীকে শনাক্ত করে আটক করেন। পরে কাস্টমস হলে নিয়ে নারী অফিসার দিয়ে শরীর তল্লাশি করে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ২০ পিস করে ৪০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই নারী জানান, ইমরুল নামের এক দালালের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয় স্বর্ণ বহনের জন্য। এ জন্য আজ ভোরে তাদের বাড়ি থেকে তুলে আনা হয় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর। স্বর্ণ বহনের জন্য নাসিমাকে ৮ হাজার টাকা ও জেসমিনকে ১০ হাজার টাকা দেয়া হবে বলে চুক্তি হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, আকাশপথে আগ থেকে সিটের ভেতরে রাখা এই স্বর্ণগুলো তাদের দেয়া হয়। তারা এগুলো পরে শরীরে লুকিয়ে ফেলে। তবে এর ভেতর কী আছে তা তারা জানত না। এটি তাদের প্রথম স্বর্ণ বহন। এর ভেতরে স্বর্ণ দেখে তারাও বিস্ময় প্রকাশ করে।

জব্দ স্বর্ণের পরিমাণ ৪.৬ কেজি। এর বাজারমূল্য প্রায় ২.৩০ কোটি টাকা। আটক নারী যাত্রীদের থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। স্বর্ণবারগুলো এয়ারপোর্ট কাস্টমসের শুল্ক গুদামের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হবে বলে জানান শুল্ক গোয়েন্দা প্রধান ড. মইনুল খান।

জেইউ/জেএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।