হাতে ব্যথা ও চুলকানি হচ্ছে মুক্তার


প্রকাশিত: ০৯:৫৪ এএম, ১৩ জুলাই ২০১৭

ঢাকা : গত তিনদিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি থাকা বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার কিশোরী মুক্তামণির বাম হাতে চুলকানি হচ্ছে। সেইসঙ্গে রয়েছে প্রচণ্ড ব্যথা।

ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ভর্তি থাকা মুক্তা অপারেশনের জন্য পুরোপুরি ফিট না। তাকে নানা ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন চিকিৎসকরা।

মুক্তার মা আসমা খাতুন জাগো নিউজকে জানান, মুক্তার হাতের ঘাঁ একটু শুকিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু হাতের ভেতর খুব চুলকানি হচ্ছে। মুক্তা বার বার বলছে, হাতের ভেতরে চুলকাচ্ছে ও ব্যথা হচ্ছে।

গতকাল রাতে তিন ঘণ্টা এবং আজ সকালে তিন ঘণ্টা হাত চুলকে দিয়েছেন তিনি। এরপর চুলকানি কিছুটা কমেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢামেকের বার্ন ইউনিটের কেবিনের বেডে বসে থাকা মুক্তাকে ব্যথায় কাঁতরাতে দেখা যায়। তবে গতকাল রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মুক্তা ভালভাবে ঘুমিয়েছে। হাতে ড্রেসিংয়ের কারণে সকাল থেকে ব্যথা হচ্ছে।

মুক্তা জাগো নিউজকে জানায়, বিছানা থেকে উঠে বসতে গেলে ও বিছানায় শুতে গেলে ব্যথা বেশি হয়।

এর আগে বুধবার মুক্তার চারটি সম্ভাব্য রোগের মধ্যে যেকোনো একটি হয়েছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। এগুলো হচ্ছে- Dermal vascular malformation (চর্ম

সংবহনতান্ত্রিক বিকলাঙ্গতা), Lymphatic malformation ( লসিকানালী/রসবাহী নালীর বিকলাঙ্গতা), Neurofibromatosis  (একটি জিনগত ব্যাধি যা স্নায়ু

টিস্যুতে টিউমার তৈরি করে) এবং Congenital hyperkeratosis (বহির্বিভাগ অর্থাৎ বহিঃত্বক কোষ পুরু থেকে পুরুতর হওয়া)। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত নির্দিষ্ট রোগ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার সকালে মুক্তার শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জাগো নিউজকে বলেন, মুক্তার চিকিৎসা চলছে, বিকেলে তাকে রক্ত দেওয়া হবে। রক্তশূন্যতার কারণে মুক্তার শরীরে আগামী তিন দিনে তিন ব্যাগ এ পজিটিভ রক্ত দেওয়া হবে।

এদিকে, মুক্তার রক্ত লাগবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংবাদ দেখে স্বপ্রণোদিত হয়ে রক্ত দিতে এসেছেন মো. মোখলেসুর রহমান নামে একজন। তিনি মিরপুর সাড়ে ১১-তে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।

মোখলেসুর রহমান বলেন, আমার বাড়ি মুক্তার বাড়ির কাছাকাছি। ফেসবুকে তার বাবার ছবি দেখে আমার চেনা চেনা মনে হয়। এরপরই আমি নিজ থেকে যোগাযোগ করে রক্ত দিতে এসেছি। বিকেলে রক্ত নেবে।

অন্যদিকে, মেয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট নিতে সকাল থেকেই দৌড়াদৌড়ি করছেন মুক্তার বাবা মো. ইব্রাহীম

হোসেন। তবে একটি পরীক্ষায় অন্য রোগীর রিপোর্ট চলে আসলে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছিলেন বলে জানান।

মুক্তার বাবা জাগো নিউজকে বলেন, ডাক্তার সিবিসি টেস্ট করতে দিয়েছে। রিপোর্ট আনতে গিয়ে দেখি মুক্তার প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে মারুফা নামের ১০ বছরের এক মেয়ের রিপোর্ট ধরিয়ে দিয়েছে। রিপোর্ট পরিবর্তন করতে নানা কাউন্টারে গিয়েছি। মুক্তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন

প্রধানমন্ত্রী। বড় স্যাররাও খুব সহযোগিতা করছেন, কিন্তু মেডিকেলের বিভিন্ন কাউন্টারের কর্মচারীরা একদমই সহযোগিতা করছের না। আমাকে ঘুরাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মুক্তার খোঁজখবর নিতে ঢামেকে আসেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ডা. জুলফিকার আলী লেলিন। তিনি নিজেই মুক্তাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়ভার নেওয়ার বিষয়টি অবগত করে। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ধন্যবাদ পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান মুক্তা।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকের বার্ন ইউনিটে আনা হয় মুক্তাকে। সেখানে দুদিন ধরে তার বিভিন্ন পরীক্ষা করেন চিকিৎসকরা। পরীক্ষার ফলাফল দেখে মুক্তাকে রক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তার সংবাদটি প্রকাশিত হয়। ৯ জুলাই জাগো নিউজে লুকিয়ে রাখতে হয় মুক্তাকে শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর মুক্তার চিকিৎসা দেওয়ার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী মুক্তার যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন।

এআর/এসআর/জেআইএম