বাবা-মা’কে চোখের আড়াল হতে দিচ্ছে না মুক্তামণি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:০৬ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০১৭

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউ’র ৫ নম্বর বেডে শুয়ে আছে মুক্তামণি। অপারেশনের মাত্র ২৪ ঘণ্টা পার হয়েছে, নড়াচড়া কম করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাই আইসিইউ’র বেডে বেশিরভাগ সময়ই ঘুমিয়ে সময় কাটাচ্ছে সে। কিছুক্ষণ পর পর ঘুম ভাঙতেই শুধু বাবা-মা’কে খোঁজে। সকাল থেকে তাদের একই কথা বলেছে, ‘হাতে খুব ব্যথা।’

রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো মুক্তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা। অপারেশনের সময় অল্প রক্তক্ষরণ হওয়ায় বিকেলে এক ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়।

মুক্তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ইনফেকশনের আশঙ্কায় আইসিইউ’র ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয় না। ঢুকলেও বেশিক্ষণ থাকতে দেয়া হয় না। তাই আমরা সারাদিন বাইরে বসে থাকি, মুক্তা একটু পর পর আমাদের খোঁজে, নার্সরা ডাক দিলে আমরা যাই। কিছুক্ষণ পরপর আমাদের সঙ্গে কথা বলে। ডাক্তারদের পরামর্শে সকাল থেকে শুধু স্যুপ খাওয়ানো হয়েছে তাকে।

মুক্তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, অপারেশনের পর হাতটা হালকা হওয়ায় আগের চেয়ে খুব ভালো বোধ করছে। সকাল থেকে কয়েকবার ব্যথা আছে বলে জানিয়েছে। তবে ব্যথা আগের মতো অসহনীয় নয়।

মুক্তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম জাগো নিউজকে বলেন, ভালো আছে মুক্তামণি। ২৪ ঘণ্টা তো শেষ হলো। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, অস্ত্রোপচার পরবর্তী সময়ে ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাতসহ বিভিন্ন জটিলতার আশঙ্কা থাকলেও আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। মুক্তামণির শারীরিক অবস্থা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে কাজ করছে বিশেষ চিকিৎসক টিম।

এর আগে শনিবার (১২ আগস্ট) মুক্তার ডান হাতে সফল অস্ত্রোপচার করেন ঢামেকের চিকিৎসকরা। প্লাস্টিক সার্জারি, জেনারেল সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সহযোগী স্টাফসহ ৩৫ সদস্যের মেডিকেল টিম অপারেশনে অংশ নেয়।

প্রথম দফায় অস্ত্রোপচারে মুক্তামণির হাত থেকে তিন কেজি বাড়তি মাংস অপসারণ করা হয়। অপারেশনের পরপরই মুক্তাকে বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে রাখা হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত ৯ জুলাই জাগো নিউজে ‘লুকিয়ে রাখতে হয় মুক্তাকে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর মুক্তার চিকিৎসা দেয়ার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তার যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন।

এআর/এএইচ/জেআইএম

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :