দেশের রাজনীতিকে দায়ী করে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা


প্রকাশিত: ০৪:৪৪ এএম, ০৪ জুন ২০১৫

দেশের রাজনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করে আরাফাত শাওন নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এই আত্মহত্যা আর দশটা আত্মহত্যার মতো নয়। সুইসাইড নোটে শাওন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, রাজনীতি ও তার পরিবারকে দায়ী করে যায়। শাওন জিপিএ ৫ পায়নি। এবার বাণিজ্য বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে ৪.৮৩ পেয়েছিল। কিন্তু বাবা-মায়ের তিরস্কার সহ্য না করতে পেরে আত্মহত্যা করেছে।

আত্মহত্যার আগে এ সমাজের মানুষগুলোকে ও রাজনীতি সম্পর্কে বিষোদগার করে গিয়েছে শাওন। এমনকি শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শাওন। সবশেষে তার কাছে কারা কারা টাকা পায় তারও একটি হিসাব দিয়ে গেছেন।

আরাফাতের সু্ইসাইড নোটে যা লেখা ছিল :

`আমি জানি না আজ আমি ঠিক কি ভুল কাজ করছি তবে এখন এটা ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না। আসলে ছেলে হয়ে এ পরিবারে জন্মগ্রহণ করাটাই আমার দূর্ভাগ্য। তা না হলে ছোট থেকে এপর্যন্ত মেয়ের মতো সব সময় পরিবারের কাজ করতেই হয়েছে। আর কখনো পরিবার থেকে আমাকে খেলাধুলার সময় বা খেলতে দেওয়া হয়নি। আর আমিও মেয়ের মতো সব সময় মায়ের আঁচলের নিচেই ছিলাম।

আর আমি আদৌ জানি না যে আমি কি? এই পরিবারের বা আমার মা-বাবার সন্তান, তা না হলে সব সময় এরকম শাসন আর কড়া শাসনের উপর আমাকে রাখা হয়েছে। কোন বাবা-মা তার সন্তানকে পড়ালেখার খরচে খোটা দেয় না। কিন্তু আমার মা বাবা সব সময় আমাকে বলে তোর জন্য মাসে মাসে হাজার হাজার টাকা খরচ করছি। এভাবেই প্রতি নয়ত বকাঝকা করা হয়। সব সময় বাবার থেকে শুধু খারাপ ভাষার গালি আর গালি শুনতে হয়। যা আমার একটুও ভালো লাগতো না। কিন্তু আমি এতো দিন সহ্য করে ছিলাম। কারণ কোন কিছু করার কথা ভাবলে মনে হতো এ দুনিয়ায় তো বাবা-মায়ের আদর ভালোবাসা পেলাম না। পেলাম না সুখ শান্তি। আসলে মানুষ বলে যে ঠিক টাকা পয়সা ও ধন সম্পদ মানুষকে সুখী করতে পারে না। আর যদি আমি নিজের হাতে আত্মহত্যা করি তা হলে মরার পরও শান্তি পাবো না। আর মরার পর আমাকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হতো। তাই এখন আমার আর এসব কিছু সহ্য হচ্ছে না।

আমাদের ছাত্রদের কি দোষ বলুন আমরা তো আমাদের মতো চেষ্টা করে যাই। তবে আমাদের দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলোর কারণে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এমন হাল। এর আগের বছর সরকার তার নিজের স্বার্থের জন্য শিক্ষার হার বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এবার হরতাল-অবরোধ দেয়ার ফলে বর্তমান সরকার বিরোধীদলীয় সরকারকে গালি দেওয়ার জন্য পাশের হার কমিয়ে দিয়েছে, ফলে দেশে ফেল এর হার বেড়েছে। বলুন আমরা আর কিভাবে ভালো রেজাল্ট করতে পারি।

আমাদের মা-বাবা চায় আমরা ভালো রেজাল্ট করি। কিন্তু দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দিকেও তো দেখতে হবে। আমার বাবা ও আমার আত্মীয়-স্বজন আমার এ রেজাল্ট (৪.৮৩) এর উপর খুশি না। সবাই আমাকে বকাবকি করছে। কিন্তু আমার স্কুলের মধ্যে ২য় স্থান পাওয়ার পরও কিন্তু তারা অন্যদের রেজাল্ট এর কথা দেখে না, ভাবে না। তাদের কথা আমাকে A+ পেতেই হবে। A+ কি গাছে ধরে যে আমি পেড়ে আনবো। আরো অনেক কথা যা মনের ভিতর জমা করে রেখেছি। কিন্তু বললে শেষ হবে না। থাক। যদিও আমি মারা যাই … তা হলে সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যদিও বেঁচে যাই….!!!

আমার কিছু ঋণ রয়েছে
DJ Flower Tuch= সূর্য ৯০০
আমার বন্ধু শুভ= ১০০ (টাকা)
ইসমাইল= ২০০/পূবালী ইলেকট্রনিক শহীদ মার্কেট

নিজ হাতে লেখা আরাফাত শাওনের সু্ইসাইড নোট :








এআরএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]