আবু সাঈদ হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি বেরোবির সাবেক ভিসি গ্রেফতার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ১৬ মে ২০২৬
পুলিশের হাতে গ্রেফতার আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি বেরোবির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ, ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মে) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা।

এডিসি জুয়েল রানা বলেন, ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বেরোবির সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

রায়ে আদালত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন- পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রেফতার আছেন।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিন আসামিও পুলিশের সাবেক সদস্য। তারা হলেন- সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। তারা পলাতক। এছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারাও পলাতক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাফিউল গ্রেফতার আছেন। হাফিজুর রহমান বর্তমানে পলাতক। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডলকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক নিরাপত্তাপ্রহরী নুর আলম মিয়াকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা সবাই পলাতক।

রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।আরপিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা দুজনইও পলাতক।

এই মামলার আসামি পলাতক চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনকে (চন্দন) পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ও দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই পলাতক।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক। ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি কারাগারে আছেন।

টিটি/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।