প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৪:১১ এএম, ১৭ মে ২০২৬

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে চলমান কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমে আসবে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটির মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গঠিত শক্তিশালী কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ যেন জলাবদ্ধতার কষ্ট থেকে মুক্তি পায়, সেটাই প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য। শতভাগ সমাধানের নিশ্চয়তা না দিলেও আমরা দৃঢ়ভাবে কাজ করছি।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে ‘অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল’ উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, নগরের ভৌগোলিক অবস্থান, জোয়ার-ভাটার প্রভাব এবং অতিবৃষ্টির কারণে বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে আধুনিক স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে পানির চাপ অনুযায়ী গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে ও বন্ধ হবে। পাশাপাশি খালের পাড়ে ওয়াকওয়ে ও ময়লা প্রতিরোধে নেটিং ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান তিনি।

নগরবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খালে ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বক্তব্য দেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, শুধু খাল খনন, ড্রেজিং বা রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না, নাগরিকদের সামাজিক সচেতনতাও জরুরি।

হেলাল উদ্দিন বলেন, খাল-নালায় মানুষের ফেলা আবর্জনা পানি প্রবাহে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে খাল থেকে তোষক, চেয়ার, টেবিল, পলিথিন ও স্বাস্থ্যবর্জ্য উদ্ধার হচ্ছে।

সভায় মো. রাজিব আহসান বলেন, চট্টগ্রাম নগরের অধিকাংশ পানি নিষ্কাশনের পথ বন্দর এলাকা হয়ে কর্ণফুলী নদী ও সাগরে মিশেছে। তাই পানি চলাচলের পথ সচল রাখা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সভাপতির বক্তব্যে শাহাদাত হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও তা মূলত চলমান উন্নয়নকাজের কারণে হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে ৫৭টি খাল এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ৩৬টি এবং চসিক ২১টি খালের কাজ করছে।

মেয়র বলেন, গত বছর চট্টগ্রামে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছে। সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে আগামী বর্ষা মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা ও জলজট নিরসন সম্ভব হবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিমসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

এমআরএএইচ/এনএইচআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।