অনুভবে ঈদ উদযাপন সিদ্দিকুরের

মুরাদ হুসাইন
মুরাদ হুসাইন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৮ পিএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৪:০৪ পিএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অনুভবের ঈদ কাটছে চোখের আলো হারানো সিদ্দিকুর রহমানের। নিজের আত্মবিশ্বাস আর মনের আলো দিয়ে ঈদকে উপভোগ করার চেষ্টা করছেন তিনি। চোখের আলো হারিয়ে যাওয়া মানে জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়, এই বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় সিদ্দিকুর। আজ শনিবার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এমন কথা জানান।

আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা। চোখ হারিয়েও অন্ধকারে বসে নেই সিদ্দিকুর। অন্ধকার পৃথিবীতে মনের আলোয় নতুন করে গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। নিজেকে একজন সুষ্ঠু-স্বাভাবিক মানুষ বলে ভাবছেন। তাই আজ ভোরে ঘুম থেকে উঠে মসজিদে গিয়ে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। মেডিকেলে ফিরে মায়ের হাতের রান্না করা সেমাই খেয়ে নাস্তা সেরেছেন। এবারের ঈদটা অন্যবারের মতো না হলেও নিজের মতো করেই উদযাপন করবেন বলে আগেই ঠিক করে রেখেছেন বলে জানান।

ঈদ কেমন কাটছে? জানতে চাইলে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সকালে গোসল করে নতুন কাপড় পরি। একজন আত্মীয়র সঙ্গে মসজিদে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছি। এরপর মেডিকেলে ফিরে মায়ের হাতে তৈরি খাবার খেয়েছি। এখন বিশ্রাম নিচ্ছি।

Siddiq-5

তিনি বলেন, গতকাল শুক্রবার রাত থেকে আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, বন্ধ-বান্ধবসহ অনেকেই ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আজ দুপুরের পর হাসপাতালে বন্ধুরা আসবে। বিকেলে বন্ধুদের নিয়ে রিকশায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে।

অন্যবারের ঈদ উদযাপনের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সিদ্দিকুর বলেন, ঈদে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সকলের সঙ্গে অনেক আনন্দ করতাম। আমি নিজের হাতে গরু কোরবানি করতাম। এরপর পরিবারের সকলে মিলে বিকেল পর্যন্ত গরুর গোস্ত কাটতাম। বিকেল বেলা কয়েকজন বন্ধু একসঙ্গে আড্ডা, ঘুরে বেড়ানো, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়াসহ অনেক মজা করে ঈদের দিনগুলো কাটাতাম।

সেদিনগুলো আজ স্বপ্ন হয়ে গেছে মন্তব্য করে সিদ্দিক বলেন, আমার চোখের আলো নেই তা ভাবতে চাই না, মনের আলো দিয়ে নিজেকে আবারও ঘুড়ে দাঁড়াতে চাই। তাই সবকিছু আবারও স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে হাসিমাখা মুখে তার বর্ণনা দেন।

siddik-3

তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়ুয়া ছেলেটির পৃথিবীটা অন্ধকার হলেও মুখের মাঝে হাসি নিয়ে কথা বলার অভ্যাসটা ঠিক রয়েই গেছে। তবে এখন তার কষ্টমাখা হাসির মাঝে নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন খুঁজে পাওয়া যায়।

সিদ্দিকুর বলেন, আমার পরিবারের সদস্যরা আমাকে নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি আমার কিছুই হয়নি। সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। আমি আবার নতুনভাবে পড়ালেখা শুরু করব। চাকরি করে পরিবারের সকলের দুঃখ ঘোচাব। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি সব চেষ্টা করে যাবেন বলেও জানান।

মা সুলেখা খাতুন বলেন, সিদ্দিকুরের ভাবনায় আমাদের খাওয়া-ঘুম হারাম হয়ে গেছে। ছেলের চোখ নষ্ট হওয়ার পর যেন পরিবারের সকলের আলো হারিয়ে গেছে। আমার ছেলে অনেক আত্মবিশ্বাসী। সে নতুনভাবে জীবনকে সাজিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। নিজের আত্মবিশ্বাস দিয়ে সিদ্দিকুরের স্বপ্ন পূরণ হবে বলে বিশ্বাস করেন তার মা।

এমএইচএম/বিএ/পিআর