ইয়ামালের প্রথম হ্যাটট্রিক, ভিয়ারিয়ালকে উড়িয়ে দিল বার্সেলোনা
অভিষেকের পর থেকেই প্রতিভার স্ফুরণ লামিনে ইয়ামালের পা থেকে। পরবর্তী মেসি হিসেবে তাকেই গণ্য করা হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল, মেসি-রোনালদো যুগের শেষ, ইয়ামাল যুগের শুরু। কিন্তু গত দুই-আড়াই বছরে লামিনে ইয়ামালের পা থেকে কোনো হ্যাটট্রিকের দেখা মেলেনি।
এবার প্রথম ক্যাম্প ন্যুতে দুর্দান্ত এক রাত উপহার দিলেন তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বার্সেলোনাকে ৪-১ গোলের জয় উপহার দিলেন তিনি। ম্যাচটি ছিল কোচ হান্সি ফ্লিকের দায়িত্ব নেওয়ার ১০০তম ম্যাচ- আর সেটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার।
ইয়ামাল লিগে নিজের গোলসংখ্যা বাড়ালেন ১৩-তে। শেষ দিকে সহজ ট্যাপ-ইন থেকে চতুর্থ গোলটি করেন রবার্ট লেওয়ানডস্কি। একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করে ভিয়ারিয়ালকে কিছুটা আশা দেখান পাপা গুয়ে।
এ জয়ে বার্সেলোনা ঘরের মাঠে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখে পয়েন্ট টেবিলে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে চার পয়েন্ট এগিয়ে গেলো। যদিও রিয়ালের একটি ম্যাচ হাতে আছে- সোমবার তারা খেলবে গেটাফের বিপক্ষে। ২৬ ম্যাচে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৬৪। রিয়াল মাদ্রিদের ২৫ ম্যাচে পয়েন্ট ৬০।
ম্যাচের শুরুতে বার্সা ছন্দ খুঁজে পেতে সময় নেয়। ফারমিন লোপেজের একটি শট ব্লক হওয়া ছাড়া তেমন সুযোগ ছিল না। ভিয়ারিয়াল রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে ভরসা রাখছিল এবং কয়েকবার হোম ডিফেন্সকে চাপে ফেলেছিল।
তবে ২৮ মিনিটে অচলাবস্থা ভাঙেন ইয়ামাল। মাঝমাঠে বল কাড়ার পর লোপেজের পাস পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন তিনি। টানা তিন ম্যাচ গোলশূন্য থাকার পর আবার স্কোরশিটে নাম তোলেন এই তরুণ তারকা।
৯ মিনিট পর আরও দুর্দান্ত এক গোল। টাচলাইনের কাছ থেকে বল পেয়ে ভেতরে কাট করে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ১৪ গজ দূর থেকে কার্লিং শটে বল জালে জড়ান ইয়ামাল- দর্শকদের দাঁড়িয়ে করতালির উপলক্ষ এনে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কর্নার থেকে সান্তিয়াগো মুরিনিয়োর ছোঁয়া পেয়ে পাপা গুয়ে গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-১। কিছুক্ষণ বার্সা চাপে পড়ে, এমনকি গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়ার ভুলে বড় বিপদের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু ৬৯ মিনিটে বদলি নেমে পেদ্রির পাস থেকে আবারও জোরালো ফিনিশে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ইয়ামাল। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক এবং তা এল ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে।
শেষ মুহূর্তে হুলেস কুন্দের ক্রস থেকে লেওয়াডস্কি গোল করেন। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উঠলেও ভিএআরের সহায়তায় গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।
ম্যাচের আগে আলোচনায় ছিল হান্সি ফ্লিকের শততম ম্যাচ। সাবেক জার্মানি কোচ বলেছিলেন, ‘এই মাইলফলকে পৌঁছানো বড় সম্মানের।’ তবে ম্যাচের পর সব আলো কেড়ে নেন ইয়ামাল- তার গতি, ড্রিবলিং ও ফিনিশিংয়ে ভিয়ারিয়াল রক্ষণ পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়ে।
আইএইচএস/